ওঙ্কার ডেস্ক: শনিবার রাতে প্রকাশিত হল এসএসসি-র বহুল আলোচিত ‘দাগি’ তালিকা। ৩৩ পাতার এই তালিকায় উঠে এসেছে ১ হাজার ৮০৬ জনের নাম। যাঁদের মধ্যে একাধিক শাসকঘনিষ্ঠ নেতা ও তাঁদের পরিবারের সদস্য রয়েছেন। তালিকা প্রকাশের পরেই তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজ্য জুড়ে।মালদহের মোথাবাড়ির তৃণমূল নেতা ও স্থানীয় শিক্ষক সামসুদ্দিন আহমেদের নামও রয়েছে সেই তালিকায়।
উল্লেখ্য ঐ তৃণমুল নেতার বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ উঠেছে মোটা টাকা নিয়ে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার। স্থানীয় সূত্রে খবর, বহুজনের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা তুলেছিলেন সামসুদ্দিন। তাঁর স্ত্রী সারিকা খাতুন বর্তমানে মালদহ জেলা পরিষদের সদস্য হওয়ায় রাজনৈতিক প্রভাবও কম ছিল না তাঁদের।
সামসুদ্দিনের পরিবারের দাবি, যোগ্য পরীক্ষার্থী হিসেবেই তিনি শিক্ষক পদে যোগ দিয়েছেন, কোনও অনিয়ম হয়নি। তবে বিরোধীদের অভিযোগ, নিজের চাকরির পাশাপাশি এলাকার সাধারণ মানুষকেও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে টাকা তুলেছিলেন সামসুদ্দিন। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে। তালিকা প্রকাশের পর থেকেই সামসুদ্দিন ও তাঁর স্ত্রীকে প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না। প্রতিবেশীদের বক্তব্য, টাকা ফেরতের দাবিতে মানুষ তাঁদের বাড়িতে পৌঁছে যেতে পারে, সেই আশঙ্কাতেই তাঁরা গা ঢাকা দিয়েছেন। তবে পরিবারের তরফে দাবি করা হচ্ছে, শ্বশুরবাড়িতে শোকের খবর শুনেই তাঁরা বাইরে গিয়েছেন।
এই ঘটনায় শুধু সামসুদ্দিনই নয়, আরও কয়েকজন শাসকঘনিষ্ঠর নাম উঠে এসেছে। তালিকায় রয়েছে তৃণমূল কাউন্সিলর কুহেলি ঘোষ ও প্রিয়াঙ্কা মণ্ডলের নাম। এছাড়া পিংলার জলচক পঞ্চায়েতের অঞ্চল সভাপতি অজয় মাঝি এবং এক বিধায়কের আত্মীয়ের নামও চিহ্নিত হয়েছে ‘দাগি’ প্রাপকদের তালিকায়।
এসএসসি সূত্রে খবর, শনিবার রাত ৮টায় প্রকাশিত তালিকায় প্রথমে ১,৮০৪ জনের নাম ছিল। পরে মধ্যরাতে আরও দু’জনের নাম যুক্ত হয়। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, এই তালিকার ভিত্তিতে মোট ২,১৬০টি অ্যাডমিট কার্ড বাতিল করা হয়েছে। কারণ, অনেক ‘দাগি’ শিক্ষক নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ উভয় স্তরের নিয়োগের জন্য আবেদন করেছিলেন। ফলে প্রাপকের সংখ্যার তুলনায় বাতিল অ্যাডমিট কার্ডের সংখ্যা বেশি হয়েছে।
মোথাবাড়ি জুড়ে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সত্যিই কি সামসুদ্দিন যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি পেয়েছিলেন, নাকি টাকার জোরে পদ দখল করেছিলেন? এর উত্তর এখনও মেলেনি, তবে জল্পনা ও বিতর্ক ক্রমেই বাড়ছে।
