ওঙ্কার ডেস্ক : প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের উপস্থিতিতে রাজ্য কংগ্রেসের সদর দফতর বিধান ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসে যোগ দিলেন সমাজকর্মী এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুদীপ্তা রায় চৌধুরী। বহুদিন ধরেই বিভিন্ন গণমাধ্যমে রাজনৈতিক প্যানেলে বিশ্লেষক হিসেবে পরিচিত মুখ ছিলেন তিনি। এই যোগদান পর্বে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস নেতা সৌরভ ঘোষ, আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়, মিতা চক্রবর্তী, রাসু দত্ত সহ অন্যান্যরা।
সুদীপ্তার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, আজকের ভারতবর্ষ ও বাংলায় যে ভাবে নারীদের উপর আক্রমণ ও অসম্মান নেমে এসেছে, তার বিরুদ্ধে সংগঠিত প্রতিবাদই এখন সময়ের দাবি। তাঁর মতে, সুদীপ্তার লেখনী, কণ্ঠস্বর ও আন্দোলনের অভিজ্ঞতা কংগ্রেসের প্রতিবাদী স্বরকে আরও জোরালো করবে।
এদিন কংগ্রেসে যোগ দিয়ে কংগ্রেস নেত্রী জানান “সেদিন আমার চোখ খুলে গিয়েছিল যেদিন দেখলাম, ভারতবর্ষের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হাজার অনুনয়-বিনয় সত্ত্বেও আরজি কর কাণ্ডের মৃতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেননি। সেই মুহূর্তে বুঝে যাই, বিজেপি আসলে এই দেশের নারীদের পাশে দাঁড়াতে চায় না। ”তিনি আরও জানান, এই অবস্থায় কেবলমাত্র ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসই এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে তিনি তাঁর প্রতিবাদ, লেখা এবং আন্দোলনের ভাষাকে একটি সংগঠিত, কার্যকর রূপ দিতে পারবেন।
সুদীপ্তা দেবী কবি ও প্রকাশক হিসেবে সুনাম ছিল। কিন্তু দলে জয়েন এর পর বিজেপিতে ওনাকে সংগঠনের কোথায় প্লেস করা হবে তা নিয়ে উচ্চ নেতৃত্ব মাথা ঘামাননি। সুদীপ্তাকে হতাশা নিয়ে বিজেপির নানান অনুষ্ঠানে ঘুরে বেড়াতে দেখেছি বহুবার। শিল্প সাহিত্য এডুকেশন সামাজিক ক্ষেত্রে গুনি বা পরিচিতদের একটি আলাদাভাবেই হ্যান্ডেল করতে হয়। পশ্চিমবঙ্গের সব রাজনৈতিক দল সেটা করে। কিন্তু আমাদের এখানেই দুর্বলতা বারবার প্রমাণিত। তা শুধরে নেওয়া তো হয়ই না উলটে সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে লোকেরে তারা দলের আর পাঁচটা কর্মীর মত ট্রিট করে। ফলে এই ঘটনা আগেও ঘটেছে এর আগেও বহু শিল্পী জাস্ট কিছু নেতৃত্বের উদাসীন ব্যবহারে নিজেরে সম্মান রক্ষার্থে সরে গেছেন। আজও তাই হল কালচারাল সেল বা ইন্টালেকচুয়াল টিচার সেল নিরপেক্ষ সমাজের প্রভাব ঘটানোর সংগঠন। দলের কিছু নেতৃত্ব ও দলে কার কি চেয়ার বা পদ সেটা নেই কার কি সম্মান সেটা ঠিক করেন। অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তারাই দুর্বলতা না কাটালে বিজেপিতে বহু গুণীজন দলে আসতে চাইলে অসম্মানের কথা ভেবে তারা পিছিয়ে যাবেন । এই বিষয়ে সুদীপ্তা রায় চৌধুরীকে দল না ছাড়ার অনুরোধ জানান অগ্নিমিত্রা পাল।
রাজ্য রাজনীতিতে এই যোগদানকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকেই। বিশেষ করে নারী অধিকার এবং নাগরিক স্বাধীনতার প্রশ্নে এক স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার এই বার্তা কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ আন্দোলনে প্রভাব ফেলতে চলেছে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের।
