ওঙ্কার ডেস্ক : সাম্প্রতিক সময়ে সুপ্রিম কোর্টের একটি রায় নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। আদালত বলেছে, বৈধ বিবাহে সন্তান জন্মালে আইন ধরে নেবে যে স্বামীই তার বৈধ পিতা। এমনকি যদি স্ত্রী সম্পর্কে পরকীয়ার অভিযোগ থাকে, তবুও, যতদিন না স্বামী প্রমাণ করতে পারেন যে সন্তান গর্ভে আসার সময় তিনি স্ত্রীর কাছে ছিলেন না, ততদিন এই ধারণা বদলাবে না। আদালত আরও বলেছে, ডিএনএ পরীক্ষা কোনও পক্ষের জন্য স্বয়ংক্রিয় অধিকার নয় এবং এটি রুটিনভাবে করা উচিত নয়।
এই রায়ে আদালত সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে সন্তানের কল্যাণ, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সামাজিক মর্যাদার উপর। আদালতের মতে, পিতৃত্বের সত্যতা অনেক সময় সামাজিক সত্যের চেয়ে বেশি ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষ করে যখন তা সন্তানের মানসিক বিকাশ ও সমাজে তার অবস্থানকে প্রভাবিত করে। ডিএনএ পরীক্ষায় পিতৃত্ব প্রকাশ পেলে তা সন্তানের জন্য সামাজিক অপমান, পারিবারিক ভাঙন ও ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে বলে দাবি করেছে আদালত।
এই রায়ের পর সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, এতে পুরুষদের ওপর এমন সন্তানের দায়িত্ব চাপানো হচ্ছে যারা হয়তো তাদের সন্তান নয়। বিবাহে আস্থা ভঙ্গ বা পরকীয়া প্রমাণিত হলেও আইন যেন সেই সত্যকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। কেউ কেউ বলছেন, একজন স্বামীর সত্য জানার অধিকার থাকা উচিত, আর সেই সত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগও থাকা দরকার। পরকীয়া অপরাধ না থাকার পর থেকে বিবাহে দায়িত্ববোধের প্রশ্ন উঠেছে, আর এই রায় সেই প্রশ্ন আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
অন্যদিকে, সমর্থকদের মতে, সন্তানের স্বার্থই সবার আগে। একটি শিশুর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল মা-বাবা দু’জনের উপস্থিতি ও একটি স্থিতিশীল পরিবার। যদি পিতৃত্বের সত্য প্রকাশে সেই স্থিতিশীলতা ভেঙে যায়, তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে শিশুরই। সমাজে শিশুকে যেন ‘অবৈধ’ তকমা পেতে না হয়, সেটাই এই রায়ের উদ্দেশ্য।
ভারতীয় সমাজ বরাবরই পারিবারিক সুনাম ও সামাজিক মর্যাদাকে গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। এই রায় সেই ঐতিহ্যকে প্রাধান্য দিচ্ছে, এবং সঙ্গে একটি প্রশ্ন রেখে যাচ্ছে, সামাজিক ভাবমূর্তির জন্য কী সত্যকে উপেক্ষা করা যথাযথ? যেকোনো সম্পর্ক দাঁড়িয়ে থাকে সত্য, আস্থা ও দায়িত্বের উপর। যদি আইন সেই ভিত্তিকে বদলে সমাজ এর দোহাই দেয়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে সম্পর্কের সততা ও আস্থার উপর এর কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়েই এখন বিতর্ক থেকে যায়।
