ওঙ্কার ডেস্ক : তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটোর বিমান বন্দরের কাছে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। অভিযুক্তদের পাকড়াও করার আগে পুলিশ তাদের পায়ে গুলি চালিয়ে প্রথমে আহত করে। মঙ্গলবার ভোরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর অভিযুক্ত থাভাসি, কার্তিক এবং কালিশ্বরণকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সংঘর্ষে তাদের পায়ে গুলি লাগে। আহত অবস্থায় তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
কোয়েম্বাটোরের একটি বেসরকারি কলেজের ওই ছাত্রী তার পুরুষ বন্ধুর সঙ্গে যাওয়ার সময় ওই তিনজন তাঁকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে যৌন নির্যাতন করে বলে অভিযোগ। এরপর রাজ্য জুড়ে ব্যাপক শোরগোল পড়ে। তামিলনাড়ু পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অভিযুক্তদের খুঁজতে সাতটি সাতটি বিশেষ দল গঠন করা হয়।
এই ঘটনায় তামিলনাড়ুতে রাজনৈতিক ঝড় ওঠেল। বছর পড়লেই রাজ্যের ভোট। ফলে বিরোধীদের কাছে এটি একটি রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে ওঠে। আইনশৃঙ্খলা এবং মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে স্ট্যালিন সরকারকে নাস্তানাবুদ করতে মাঠ্যে নামে বিরোধীরা। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা এডাপ্পাদি কে পালানিস্বামী রাজ্যজুড়ে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছেন। তাঁর প্রশ্ন, “মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিনের অধীনে কি কোনও কার্যকর পুলিশ বাহিনী আছে ?” এই ইস্যুতে বিজেপিও সোমবার সন্ধ্যায় কোয়েম্বাটোরে একটি বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছিল। ছাত্রী নির্যাতনের বিরুদ্ধে রাজ্য জুড়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে বিজেপিও। বিজেপির কে আন্নামালাই X-এ বলেছেন, “কোয়েম্বাটোরের ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। তামিলনাড়ুতে ডিএমকে সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে, নারীদের বিরুদ্ধে এই ধরণেরর অপরাধ বারবার হচ্ছে। পুলিশ বা আইন নিয়ে কোনো ভয় নেই সমাজবিরোধীদের। ডিএমকে মন্ত্রী থেকে শুরু করে আইন প্রয়োগকারী কর্মীরা, যৌন অপরাধীদের রক্ষা করার স্পষ্ট প্রবণতা রয়েছে।”
তাঁর অভিযোগ, “জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বা আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য পুলিশ ব্যবহার করার পরিবর্তে, ডিএমকে সরকার কেবল শাসনের সমালোচকদের গ্রেপ্তার করতে করার জন্য তাদের নিয়োগ করছে, যার ফলে তামিলনাড়ু আজ চরম লজ্জার মধ্যে রয়েছে। পুলিশ বাহিনীর দায়িত্বে থাকা স্ট্যালিনের লজ্জায় মাথা নিচু করা উচিত।” তামিলাগা ভেত্র্রি কাজাগাম (টিভিকে)-এর প্রধান অভিনেতা-রাজনীতিবিদ বিজয় স্ট্যালিনকে “জেগে উঠতে” বলেছিলেন। এই ঘটনায় তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আইনশৃঙ্খলা এবং জননিরাপত্তা কোথায় ?”। “আন্না বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নির্যাতনের ক্ষত সেরে ওঠার আগেই আরও একটি গণধর্ষণের ঘটনা তোলপাড় করেছিল গোটা রাজ্যকে। সেই ঘটনার কথা তুলে তিনি বলেন, ওই ঘটনায় অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি) চেয়ারপারসন কোয়েম্বাটুরের হামলাকে “রাজ্য পুলিশের ব্যর্থতা” বলেও অভিহিত করেছেন, জিজ্ঞাসা করেছেন, “আর কত নির্ভয়া ?”
ক্ষমতাসীন ডিএমকে এবং ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা, এর আগেও রাজ্যে নারীর বিরুদ্ধে যৌন অপরাধ বৃদ্ধির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁরা বলছেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত এবং কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিচার যাতে দ্রুত শেষ হয় তার জন্য চেষ্টা করছে তদন্তকারীরা। করা হচ্ছে, সাম্প্রতিক আন্না বিশ্ববিদ্যালয়ের দোষী সাব্যস্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করে। ডিএমকে মুখপাত্র ডঃ সৈয়দ হাফিজুল্লাহ বলেছেন, “বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া সত্ত্বেও, এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনাগুলি মহিলাদের বিরুদ্ধে ঘটে চলেছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই দ্রুত এবং কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দেশজুড়ে নারীর বিরুদ্ধে অপরাধের ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধির মধ্যে আমাদের এটি দেখা উচিত”।
