ওঙ্কার ডেস্ক: সম্প্রতি টেট এর ফল প্রকাশের পরই ১৩৪২১ টি পদে প্রথামিক শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে প্রাথ,ইক শিক্ষা পর্ষদ। পর্ষদের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী পুজোর পরই শুরু হবে নিয়োগ প্রক্রিয়া। প্রথমে ২৫ তারিখ, বৃহস্পতিবার শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু নিজের এক্স হ্যান্ডেলে পোষ্ট করেন এবং তারপরই প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ সরকারিভাবে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।
পর্ষদ প্রথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার কালক্রম, নম্বর বিভাজন, শূন্যপদ সমস্ত কিছু নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে। ইতিমধ্যেই ২০২৩ সালের টিচার এলিজিবিলিটি টেস্ট এর ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে ২৪ সেপ্টেম্বর। সেই ফলাফলের ভিত্তিতেই এবারের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে।
রাজ্য প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ জানিয়েছে, অনলাইনের মাধ্যমে এই আবেদনের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা হবে। প্রার্থীদের জন্য বয়সসীমা সর্বাধিক ৪০ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে, যদিও সংরক্ষিত শ্রেণির প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বয়সে ছাড় থাকবে। যোগ্যতার শর্ত হিসেবে প্রার্থীদের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে নির্দিষ্ট নম্বর থাকতে হবে, এনসিটিই স্বীকৃত প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ করতে হবে এবং টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় মাধ্যমিকে ৫ নম্বর, উচ্চমাধ্যমিকে ১০ নম্বর, প্রশিক্ষণে ১৫ নম্বর, টেট–এ ৫ নম্বর, অতিরিক্ত পাঠচর্চা বা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে ৫ নম্বর এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পারশিক্ষক হিসেবে অভিজ্ঞতা বা মৌখিক পরীক্ষার জন্য আলাদা নম্বর যোগ হবে।
এই নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কারণ, এবারের টেট পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল প্রায় ২ লক্ষ ৭৩ হাজারেরও বেশি প্রার্থী, যার মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র ৬,৭৫৪ জন, অর্থাৎ সাফল্যের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ২.৪৭ শতাংশ। এত কম সংখ্যক প্রার্থী উত্তীর্ণ হওয়ায় প্রতিযোগিতা যে তীব্র হবে, তা বলাই বাহুল্য। দীর্ঘদিন ধরে টেট উত্তীর্ণ প্রার্থীরা নিয়োগের দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন। বিশেষ করে ২০২২ সালের টেট পরীক্ষার উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ক্ষোভ জমা হচ্ছিল বহুদিন ধরেই। তাঁদের অভিযোগ ছিল, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে অন্তত ৫০ হাজার শূন্যপদ রয়েছে। তবে সরকার তা অস্বীকার করে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই ১৩,৪২১টি পদেই নিয়োগ হবে।
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে আবেদন শুরুর ও শেষ হওয়ার তারিখ, ফর্ম পূরণের নিয়ম, ফি জমা দেওয়ার পদ্ধতি এবং সমস্ত বিস্তারিত তথ্য জানিয়ে দেওয়া হবে। শিক্ষা দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ স্বচ্ছ ও অনলাইনভিত্তিক হবে। ফলে বহুদিনের জট কাটিয়ে নতুন শিক্ষকদের নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ায় চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে আশার আলো দেখা দিয়েছে।
