নিজস্ব সংবাদাতা : মালদহের লক্ষ্মীপুর গ্রামে জন্মদিনের পার্টি পরিণত হল রক্তাক্ত নাটকে। বন্ধু ও সহকর্মীর বাড়িতে নিমন্ত্রিত হয়ে খুন হতে হল তৃণমূল নেতা আবুল কালাম আজাদকে। অভিযোগের আঙুল উঠেছে তাঁরই পুরনো সঙ্গী, আর এক তৃণমূল নেতা মইনুল শেখের দিকে। ইংরেজবাজার থানার অন্তর্গত লক্ষ্মীপুর গ্রামে বৃহস্পতিবার রাতে এক বন্ধুর বাড়িতে জন্মদিনের নিমন্ত্রণ ছিল আবুল কালাম আজাদের। পার্টির মাঝেই তাঁকে ঘরের ভিতর ডেকে নিয়ে দরজা বন্ধ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে একের পর এক কোপ মারা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তৃণমূল নেতার।
স্থানীয় সূত্রে খবর, নিহত আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে জমি দখল থেকে জাল নথি তৈরির মতো একাধিক অভিযোগ আগে থেকেই ছিল। সম্প্রতি জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখিয়ে জমি আত্মসাতের অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এই সব বিতর্কের মধ্যেই তাঁর এক সময়ের ব্যবসায়িক অংশীদার মইনুল শেখের সঙ্গে নয় বিঘা জমি নিয়ে বিরোধ চরমে ওঠে। পুলিশ মনে করছে, সেই বিবাদই শেষমেশ খুনে গিয়ে পৌঁছেছে।
অভিযুক্ত মইনুল শেখ একসময় কংগ্রেসে গেলেও পরে আবার তৃণমূলে ফিরে আসেন। তবে জেলা তৃণমূল সভাপতি আব্দুল রহিম বক্সী সাফ জানিয়েছেন, “দলের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই। অভিযুক্ত যে-ই হোক, কঠোর আইনি ব্যবস্থা হোক।” মইনুল শেখকে ইতিমধ্যেই আটক করেছে পুলিশ। চলছে জিজ্ঞাসাবাদ। এই ঘটনার দিনেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে তৃণমূল নেতা রজ্জাক খাঁকে প্রকাশ্যে গুলি ও ধারালো অস্ত্রের কোপ মেরে খুন করা হয়েছিল। তিনি বিধায়ক শওকত মোল্লার ঘনিষ্ঠ ছিলেন। টানা দু’দিনে দুই জেলায় রাজনৈতিক খুনের জেরে চাপে শাসক দল।
