ওঙ্কার ডেস্ক: প্রায় চার দশক পর বক্সারের জঙ্গলের ভিতর দিয়ে ছুটবে ট্রেন, এমন ঘোষণা করল ভারতীয় রেল কতৃপক্ষ। কিন্তু এই ঘোষণার পর চর্চা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে। প্রায় চার দশকের উপর বন্ধ থাকা এই রুটে ফের ট্রেন চলাচল শুরু করার কারণ কি সে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিবেশবিদের এক মহল। উল্লেখ্য, এই এলাকায় বন্য প্রাণী সংরক্ষণ করা হয়। নিয়মিত ট্রেন চলাচল করলে বন্য প্রাণী সুরক্ষা অনিশ্চিত পরবে বলে মনে করছেন অনেকে।
উত্তরবঙ্গের সংরক্ষিত বনাঞ্চল বক্সা টাইগার রিজার্ভের ভিতর দিয়ে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা রাজভাটখাওয়া–জয়ন্তী রেলপথ পুনরায় চালু করছে কেন্দ্র। প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেললাইনটি বহু বছর আগে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের স্বার্থে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি রেল কর্তৃপক্ষ পুনঃস্থাপন ও আধুনিকীকরণের ঘোষণা করলে পরিবেশপ্রেমী মহল ও স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
রেলের দাবি, এই প্রকল্প চালু হলে ডুয়ার্স ও পার্বত্য এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হবে, পর্যটনের প্রসার ঘটবে এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সুযোগ তৈরি হবে। দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্ন থাকা এলাকাগুলির সঙ্গে সহজ সংযোগ স্থাপিত হবে বলেও মনে করা হচ্ছে। ফলে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
তবে পরিবেশবিদ ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, টাইগার রিজার্ভের মধ্য দিয়ে ট্রেন চলাচল শুরু হলে বাঘ, হাতি, হরিণসহ নানা প্রজাতির প্রাণীর স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হতে পারে। শব্দদূষণ, কম্পন ও আলোর প্রভাব তাদের বাস্তুতন্ত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। প্রাণী-ট্রেন সংঘর্ষের ঝুঁকিও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বনভূমি খণ্ডিত হলে দীর্ঘমেয়াদে জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি অনিবার্য বলেও মত প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
এছাড়া প্রকল্প শুরুর আগে পূর্ণাঙ্গ পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা ও প্রয়োজনীয় বন অনুমোদন হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, উন্নয়নের নামে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা উচিত নয়। অন্যদিকে স্থানীয়দের একাংশ রেলপথ ফিরে আসায় আশাবাদী। তাদের মতে, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থাই এলাকার সামগ্রিক বিকাশে সহায়ক হবে।
