ওঙ্কার ডেস্ক: মার্কিন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও কূটনীতির মঞ্চে বিতর্ক উসকে দিলেন। ফ্রান্সের উপর ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে তিনি স্পষ্ট করে দিলেন, কূটনৈতিক মতপার্থক্য মেটাতে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করতেও পিছপা হন না মার্কিন মুলক। মূলত ফরাসি মদ ও শ্যাম্পেনের উপর এই বিপুল হারে শুল্ক বসানোর কথা বলেছেন ট্রাম্প। তাঁর প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ‘বোর্ড অফ পিস’-এ যোগ দিতে অনীহা প্রকাশ করায় এই অবস্থান নিয়েছে প্রেসিডেন্ট বলে দাবী বিভিন্ন মহলের।
ট্রাম্পের দাবি, বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি আন্তর্জাতিক মঞ্চ তৈরি করতেই এই ‘বোর্ড অফ পিস’। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত-সহ বিভিন্ন বৈশ্বিক সংকট নিয়ে আলোচনার জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তাঁর বক্তব্য। তবে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ এই প্রস্তাবে সরাসরি সায় দেননি। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে, এই বোর্ডের কাঠামো, উদ্দেশ্য এবং অর্থনৈতিক দায়বদ্ধতা নিয়ে ফ্রান্সের একাধিক প্রশ্ন রয়েছে। সেই কারণেই আপাতত এতে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত।
এই প্রেক্ষিতেই ট্রাম্প প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলেন, ফ্রান্স যদি বোর্ডে যোগ না দেয়, তবে সে দেশের জনপ্রিয় মদ ও শ্যাম্পেন আমদানির উপর ২০০ শতাংশ শুল্ক বসানো হতে পারে। তাঁর মন্তব্য, এই ধরনের শুল্ক আরোপ হলে ফরাসি পণ্যের মার্কিন বাজার কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে এবং তাতেই ফ্রান্স অবস্থান বদলাতে বাধ্য হবে। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, মাক্রোঁ শেষ পর্যন্ত তাঁর প্রস্তাবে যোগ দেবেন বলেই তিনি বিশ্বাস করেন।
এখানেই থামেননি ট্রাম্প। তিনি প্রকাশ্যে মাক্রোঁর সঙ্গে হওয়া ব্যক্তিগত বার্তালাপের অংশও তুলে ধরেন, যেখানে অন্য আন্তর্জাতিক ইস্যু, এমনকি গ্রিনল্যান্ড ও মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময়ের ইঙ্গিত রয়েছে। এই পদক্ষেপকে অনেকেই কূটনৈতিক শালীনতার সীমা লঙ্ঘন বলে সমালোচনা করেছেন।
ফ্রান্সের রাজনৈতিক মহলে এই হুমকিকে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে বিদেশনীতি প্রভাবিত করার চেষ্টা বলে দেখা হচ্ছে। ইউরোপের একাধিক মহল থেকেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে যে, এই ধরনের শুল্ক হুমকি শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, সামগ্রিকভাবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকেই অস্থির করে তুলতে পারে। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আমেরিকার মধ্যে ইতিমধ্যেই নানা বাণিজ্যিক টানাপোড়েন চলছে, তার মধ্যেই এই মন্তব্য নতুন করে উত্তেজনা বাড়াল। ট্রাম্পের এই বক্তব্যে স্পষ্ট, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তাঁর কৌশল কতটা আক্রমণাত্মক এবং অনিশ্চিত। ফ্রান্স শেষ পর্যন্ত অবস্থান বদলায় কি না, কিংবা এই শুল্ক হুমকি বাস্তবে রূপ নেয় কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আন্তর্জাতিক মহল।