ওঙ্কার ডেস্ক: আলাস্কার সামরিক ঘাঁটি ‘জয়েন্ট বেস এলমেনডর্ফ-রিচার্ডসন’ এর রানওয়েতে লাল কার্পেট বিছিয়ে স্বাগত জানানো হয়েছিল রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে। করমর্দনের পর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে পাশাপাশি হাঁটার সময় হঠাৎই আকাশে ভেসে ওঠে মার্কিন বায়ুসেনার শক্তির প্রতীক একটি বি-২ স্পিরিট স্টেল্থ বোমারু বিমান এবং তার সঙ্গে চারটি এফ-২২ যুদ্ধবিমান। দৃশ্যত সেই মুহূর্তে পুতিনের চোখ চলে যায় আকাশের সেই ভঙ্গিই ইঙ্গিত দেয় দুই রাষ্ট্রনেতার ব্যক্তিগত সমীকরণ এখনও অটুট।
প্রায় পাঁচ বছর পর মুখোমুখি বৈঠকে বসেন ট্রাম্প ও পুতিন। মার্কিন মুলুকের বাইরের বৃহত্তম সামরিক ঘাঁটি, ৬৪ হাজার একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এলমেনডর্ফ-রিচার্ডসন ঘাঁটির অ্যাঙ্কোরেজ শহরে হয় বহু প্রতীক্ষিত এই বৈঠক। শুক্রবার মধ্যরাত থেকে ভোররাত পর্যন্ত (ভারতীয় সময়) টানা তিন ঘণ্টা ধরে চলে আলোচনা। প্রথমে প্রতিনিধি পর্যায়ে, পরে একান্তে।
যদিও আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সম্ভাব্য বিরতি, তবুও বৈঠকের শেষে দুই রাষ্ট্রনেতাই জানিয়েছেন, চূড়ান্ত কোনও সমাধান হয়নি। তবে ট্রাম্পের দাবি, আলোচনা ছিল “ফলপ্রসূ এবং ইতিবাচক”। প্রেসিডেন্টের বক্তব্য, “আলোচনায় আমরা অনেকটাই অগ্রগতি করেছি। বাকি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ন্যাটো ও ইউরোপীয় দেশগুলির সঙ্গে আলোচনার পর”।
অন্যদিকে, পুতিন আলোচনায় অগ্রগতির কথা স্বীকার করলেও শর্ত জুড়ে দিয়ে বলেন, “যুদ্ধ শুরুর জন্য দায়ী ইউক্রেন প্রেসিডেন্টকে ক্ষমা চাইতে হবে”। স্পষ্টতই যুদ্ধবিরতির দায়ভার কিয়েভের কাঁধে চাপালেন তিনি। তাঁর কথায়, “যুদ্ধ বন্ধ আমাদের কাছে অগ্রাধিকারের বিষয়। কিন্তু আগে কারণগুলো বিশ্লেষণ করতে হবে, দায়ীদের দায় স্বীকার করতে হবে। না হলে এই ট্রাজেডি থামবে না”। পুতিনের বক্তব্যে ইঙ্গিত মেলে, মস্কো আলোচনায় আগ্রহী হলেও ইউক্রেনের ভূমিকা এবং পশ্চিমা মিত্রদের অবস্থানই নির্ধারণ করবে যুদ্ধের ভবিষ্যৎ। জবাবে ট্রাম্প জানান, তিনি এই প্রসঙ্গে ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে কথা বলবেন। তাঁর ভাষায়, “যুদ্ধ বন্ধ অনেকটাই নির্ভর করছে ইউক্রেন ও তার মিত্রদের উপর”।
তাৎক্ষণিক সমাধান না মিললেও, দুই পক্ষের ইতিবাচক দেহভঙ্গি এবং বৈঠকের আন্তরিক আবহ কূটনৈতিক মহলে আশাব্যঞ্জক বলেই মনে করা হচ্ছে। বৈঠক শেষে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের আলাপ আলোচনায় ইতিহাস রচিত হল। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়, তবু অগ্রগতি হয়েছে”। পুতিনও একই সুরে বলেন, “আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। আশা করি আমেরিকা নিশ্চিত করবে, ইউক্রেন ও তার মিত্ররা এই অগ্রগতি ভেস্তে না দেয়।” দুই শীর্ষ নেতার পরবর্তী বৈঠক হতে পারে মস্কোয়। আন্তর্জাতিক মহলের কূটনীতিকরা মনে করছেন, এই আলোচনা যদিও যুদ্ধবিরতির দ্বার উন্মুক্ত করেনি, তবে দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হতে পারে।
