ওঙ্কার ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনায় নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত দুই নার্সের মধ্যে একজনের অবস্থার উন্নতির কথা জানিয়েছে স্বাস্থ্যভবন। অপর আরেকজন নার্সের অবস্থার উন্নতি না হলেও অবস্থা স্থিতিশীল আছে বলে জানানো হয়েছে। দুইজনেরই অবস্থা শঙ্কটজনক ছিল বলে জানানো হয়েছিল। দুই নার্সিকেই ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল। সূত্রের খবর অনুযায়ী, সংক্রমিত নার্সদের নমূনা পরীক্ষার জন্য পুনে পাঠানো হয়েছিল। ফলাফল আসার পরই জানা যায় তাঁরা প্রাণনাশী নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত। দাদরা থেকে ওষুধ আনিয়ে তাঁদের চিকিৎসা করানো হয় বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্যভবন।
চিকিৎসকদের মতে, নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত দু’জনেই বর্তমানে চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন। বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ওই দুই নার্সের একজনের অবস্থা আগের তুলনায় সামান্য উন্নত হয়েছে। প্রথমদিকে গুরুতর অবস্থায় ভেন্টিলেশনে রাখা হলেও পরে তাঁর ট্র্যাকিওস্টোমি করা হয় এবং চিকিৎসার প্রভাবে শারীরিক প্রতিক্রিয়া ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। অন্যদিকে, দ্বিতীয় নার্সের অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক হলেও তা স্থিতিশীল রয়েছে। নতুন করে কোনও জটিলতা দেখা যায়নি বলে হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে। দু’জনেরই চিকিৎসা চলছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে, আইসোলেশন ইউনিটে রেখে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সাপোর্টিভ কেয়ার দেওয়া হচ্ছে। নিপা সংক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ বাইরে থেকে সংগ্রহ করে আনা হয়েছে এবং তা নির্দিষ্ট প্রোটোকল মেনেই প্রয়োগ করা হচ্ছে।
এই দুই নার্সের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর বাড়তি সতর্কতা নিয়েছে। তাঁদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তি ও স্বাস্থ্যকর্মীদের চিহ্নিত করে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত নতুন করে কারও শরীরে নিপা ভাইরাসের উপসর্গ বা সংক্রমণ ধরা পড়েনি, যা কিছুটা হলেও আশাব্যঞ্জক বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য আধিকারিকেরা। পাশাপাশি, হাসপাতাল চত্বরে ও আশপাশের এলাকায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রুখতে নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে।
স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি এখনও সংবেদনশীল হলেও আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। চিকিৎসকদের ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ ও প্রশাসনের কড়া নজরদারির মধ্যেই দুই আক্রান্ত নার্সের চিকিৎসা চলছে। তাঁদের শারীরিক অবস্থার প্রতিটি পরিবর্তন নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে চিকিৎসা ব্যবস্থায় তাৎক্ষণিক পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
