ওঙ্কার ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের একটি সরকারি মেডিক্যাল প্রতিষ্ঠানে এক নার্সিং ছাত্রীর শারীরিক শোষণ ও ব্ল্যাকমেলের অভিযোগকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ওই প্রতিষ্ঠানেরই এক ইন্টার্ন চিকিৎসক। পুলিশের কাছে দায়ের করা অভিযোগে ওই ছাত্রী জানিয়েছেন, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করেন অভিযুক্ত। সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়েই একাধিকবার তাঁর শারীরিক শোষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
ছাত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত চিকিৎসক প্রথমে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাঁকে মানসিকভাবে প্রভাবিত করেন। সম্পর্কের সময় ব্যক্তিগত কিছু ছবি ও তথ্য সংগ্রহ করেন তিনি। পরে বিয়ের প্রসঙ্গ উঠতেই আচমকা অবস্থান বদলে ফেলেন অভিযুক্ত। অভিযোগ, এরপর থেকেই ওই ইন্টার্ন চিকিৎসক ওই ছাত্রীকে ভয় দেখাতে শুরু করেন। ব্যক্তিগত ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাঁকে চুপ থাকতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়। মানসিক চাপ ও ভয়ের মধ্যেই দীর্ঘদিন কাটাতে হয়েছে ওই ছাত্রীকে।
শেষ পর্যন্ত সাহস সঞ্চয় করে পুলিশের দ্বারস্থ হন নির্যাতিতা। লখনউয়ের কাইজারবাগ থানায় তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর রুজু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগকারিণীর বয়ান ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অভিযুক্ত ইন্টার্ন চিকিৎসকের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে এবং তাঁর মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল তথ্য খতিয়ে দেখার প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে সংশ্লিষ্ট মেডিক্যাল প্রতিষ্ঠানে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। পড়ুয়া ও কর্মীদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, চিকিৎসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ুয়াদের নিরাপত্তা ও নৈতিকতার বিষয়টি কতটা সুরক্ষিত। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার এই ধরনের অভিযোগ সামনে আসায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
