ওঙ্কার ডেস্ক: বিশ্বরাজনীতির উত্তাপে ফের আলোচনায় এশিয়া ও আমেরিকার দুই শক্তিধর দেশ। চলতি সপ্তাহেই স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে বসতে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। রোববার নির্ধারিত এই বৈঠক ঘিরে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। মূলত বাণিজ্য সংঘাত, শুল্ক নীতি এবং জনপ্রিয় অ্যাপ টিকটককে ঘিরে চলা বিতর্ক নিয়েই আলাপ হবে বলে সূত্রের খবর।
আমেরিকার তরফে আলোচনায় যোগ দেবেন অর্থ সচিব স্কট বেসেন্ট ও বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রির। চিনের পক্ষে উপস্থিত থাকবেন উপপ্রধানমন্ত্রী হে লিফেং। কূটনৈতিক দুনিয়ার মতে, দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক মাসগুলিতে সম্পর্ক একাধিকবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে বেজিংয়ের উপর নয়া চাপ তৈরি হয়েছে। তাঁর প্রশাসন নতুন করে আমদানি শুল্ক আরোপের পাশাপাশি চিনা প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিয়েছে। এরই জেরে টিকটকের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে টিকটক নিষিদ্ধ করার জন্য কংগ্রেস ইতিমধ্যেই আইন পাশ করেছিল। ট্রাম্প প্রশাসন সেই প্রক্রিয়াকে কিছু সময়ের জন্য স্থগিত রাখলেও আবারও অ্যাপটির মালিকানা পরিবর্তন বা মার্কিন বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জোরদার হচ্ছে। বেজিং অবশ্য এখনও সে প্রস্তাবে রাজি হয়নি। ফলে স্পেনের বৈঠককে ঘিরে প্রযুক্তি ও বাণিজ্য মহলের দৃষ্টি থাকছে টিকটক প্রসঙ্গে কোনও সমঝোতা হয় কি না।
এই বৈঠক দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক চারটি উচ্চপর্যায়ের আলোচনার অন্যতম। তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বড় ধরনের কোনও সিদ্ধান্ত এখান থেকে বেরিয়ে আসবে না। বরং সংলাপের নতুন ভিত্তি গড়ে তোলাই হবে প্রধান লক্ষ্য। বাণিজ্য যুদ্ধের প্রভাব শুধু আমেরিকা বা চিনেই সীমাবদ্ধ নয়, গোটা বিশ্ব বাজার ও সরবরাহ ব্যবস্থার উপর এর প্রতিফলন পড়ছে। ফলে এ ধরনের আলোচনার সাফল্য বা ব্যর্থতা আন্তর্জাতিক অর্থনীতির গতিপথও নির্ধারণ করতে পারে।
মাদ্রিদের বৈঠক আয়োজনের ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সাঞ্চেজ। আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে তাঁর এই উদ্যোগকে ইতিবাচক বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
