ওঙ্কার ডেস্ক: মার্কিন বাজারে রফতানিজাত চিনা পন্যের উপর আগেই ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সেই শুল্ক বহাল রেখেই আরও ১০০% শুল্ক চাপানো হবে চিন থেকে আমেরিকায় যাওয়া পন্যে উপর। এখন চিনা ব্যবসায়ীদের মোট ১৩০% শুল্ক গুনতে হবে আমেরিকার বাজারে পন্য রফতানি করতে গেলে। এমনটাই জানালো মার্কিন প্রশাসন।
শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন বিরল খনিজ পদার্থের রফতানি নিয়ন্ত্রনের কারনে শাস্তি স্বরুপ সমস্ত চিনা পন্যের উপর অতিরিক্ত ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপাবে ওয়াশিংটন। এর আগে চিনা পন্যের উপর ৩০% শুল্ক নির্ধারিত ছিল।যা এখন বেড়ে ১৩০% তে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। যা বর্তমানে বিশ্ববাজারে সর্বাধিক শুল্ক আরোপিত দেশ। অন্যদিকে মার্কিন পন্যের উপর ১০% শুল্ক নেয় চিন।
হঠাৎ চিনা পন্যের উপর এহেন শুল্ক আরোপের নেপথ্যের কারন হিসাবে প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, বেজিং সারা বিশ্বে রফতানি করা বিরল খনিজ পদার্থের নিয়ন্ত্রন নিজের হাতে নিয়েছে আর এতে সারা বিশ্বের খনিজ বানিজ্যে্র সিংহভাগ নিয়ন্ত্রন থাকবে চিনের হাতে। আর এটাই মেনে নিতে নারাজ মার্কিন প্রেসিডেন্ট। উল্লেখ্য, এই বিরল খনিজ পদার্থ এখনকার সমস্ত স্মার্ট ফোন, কম্পিউটর, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম তৈরিতে এক গুরুত্বপুর্ন উপাদান। আর এই খনিজ রফতানি তে নিয়ন্ত্রন আনতে সমস্ত বানিজ্যিক দেশ গুলিকে চিঠি পাঠিয়েছে বেজিং। এতেই রেগে গিয়ে ট্রাম্প তাঁর সমাজমাধ্যামে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাঁর কথায়, “চিনেরএই বিশাল বাণিজ্য বৈরিতার উপর অনান্য দেশ গুলিও অত্যন্ত ক্ষুব্ধ”। তিনি আরও বলেন, “গত ছয় মাস ধরে চিনের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। কিন্তু এখন চিন গোটা বিশ্বকে বন্দী রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছে, যার অনুমতি আমরা দিতে পারিনা”।
বিশ্ববাজারে চিনের একাধিপত্য নিয়ে ক্ষুদ্ধ ট্রাম্প। তিনি তাঁর সমাজ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালের পোষ্টে লেখেন, “চিন চাইছে চুপিচুপি একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করতে যা ভয়াবহ এবং সারা বিশ্বের বানিজ্যের প্রতিকুল”। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, “ বিশ্ব বানিজ্য বাজারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরও একচেটিয়া অবস্থান আছে, যা চীনের তুলনায় অনেক শক্তিশালী এবং সুদূরপ্রসারী। আমি কেবল তাদের ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিইনি, আমার কখনও তা করার কোনও কারণ ছিল না – এখন পর্যন্ত!”
চলতি মাসের শেষে দক্ষিন কোরিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিংপিং এর বৈঠকের কথা ছিল। যা আপাতত বালিত করেছেন ট্রাম্প। ওয়াশিংটনের এই পক্ষেপের পাল্টা জবাব চিন কিভাবে নেয় তাঁর দিকে নজর সারা বিশ্বের।
