ওঙ্কার ডেস্ক: ভারতের রফতানির ওপর দ্বিগুণ শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্তকে ঘিরে শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েন। ওয়াশিংটনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই পদক্ষেপ সরাসরি ভারতের বিরুদ্ধে নয়, বরং রাশিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবেই নেওয়া হয়েছে। ফলে বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগের ২৫ শতাংশ শুল্কের পাশাপাশি আরও ২৫ শতাংশ যুক্ত করে ভারতের রফতানির ওপর কার্যত ৫০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে। অর্থাৎ মার্কিন বাজারে ভারতীয় পণ্যের প্রবেশ আরও কঠিন হয়ে পড়ল।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার জানিয়েছেন, তিনি চান না ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হোক। রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভারত যে মস্কোর সঙ্গে বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ক রাখছে, সেটাই এখন মূল ফোকাস।”
নয়াদিল্লি অবশ্য এই বিষয়ে প্রকাশ্যে খুব সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং ভারতের স্বার্থ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই কূটনৈতিক পথে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা হচ্ছে।
কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই শুল্কনীতি শুধু বাণিজ্যিক চাপ নয়, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের অবস্থানকে নতুন করে পরীক্ষার মুখে ফেলবে। একদিকে রাশিয়ার সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখা, অন্যদিকে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এই দুইয়ের সমন্বয় রক্ষা করাই এখন নয়াদিল্লির বড় চ্যালেঞ্জ।
অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, শুল্ক বৃদ্ধির ফলে ভারতের টেক্সটাইল, ওষুধ, ইস্পাত এবং যন্ত্রপাতি শিল্প সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। মার্কিন বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে উঠবে, যার ফলে রফতানি খাতে বড় ধাক্কা আসতে পারে। আমেরিকার এই নতুন শুল্কনীতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পাশাপাশি ভূ-রাজনীতিতেও চাপ বাড়াল ভারতের ওপর। এখন দেখার বিষয়, নয়াদিল্লি কূটনৈতিকভাবে কত দ্রুত ও কার্যকরভাবে পরিস্থিতি সামলাতে পারে।
