ওঙ্কার ডেস্ক: ভারত–মার্কিন প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও এক ধাপ এগোল। ওয়াশিংটনের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও ডিফেন্স সিকিউরিটি কোঅপারেশন এজেন্সি (ডিএসসিএ) ঘোষণা করেছে, প্রায় ৯৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুমোদন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই চুক্তির মাধ্যমে ভারত পেতে চলেছে অত্যাধুনিক জ্যাভেলিন অ্যান্টি-ট্যাংক গাইডেড মিসাইল এবং এম-৯৮২এ১ এক্সক্যলিবার গাইডেড আর্টিলারি প্রজেক্টাইল, যা আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে বিবেচিত।
জানা গেছে, চুক্তির আওতায় শুধু অস্ত্রই নয়, তার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে কমান্ড লঞ্চ ইউনিট, উন্নত প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা, টেস্ট সিমুলেশন রাউন্ড, স্পেয়ার পার্টস, মেরামত সুবিধা এবং লজিস্টিক সাপোর্টও। অর্থাৎ, এই চুক্তি অস্ত্র কেনাকাটায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং পুরোপুরি একটি ‘কমপ্রীহেনসিভ কমব্যাট প্যাকেজ’, যা ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর সামগ্রিক প্রস্তুতি ও যুদ্ধক্ষমতা আরও বাড়িয়ে তুলবে।
ডিএসসিএ জানিয়েছে, ভারতের প্রতি এই সামরিক সহায়তা যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক লক্ষ্য ও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ওয়াশিংটন মনে করে, ভারতকে আরও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দিলে ইন্দো–প্যাসিফিক অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে সহায়তা হবে এবং দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বও আরও সুদৃঢ় হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্যাভেলিন মিসাইল সিস্টেম ভারতীয় সেনাবাহিনীর অ্যান্টি-ট্যাংক ক্ষমতাকে নতুন মাত্রা দেবে। অত্যন্ত হালকা, নিখুঁত লক্ষ্যভেদী এবং ‘ফায়ার-অ্যান্ড-ফরগেট’ প্রযুক্তির কারণে এই মিসাইল আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে খুবই কার্যকর। অন্যদিকে, এক্সক্যলিবার প্রজেক্টাইল দূরপাল্লায় অত্যন্ত নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম, ফলে আর্টিলারি অপারেশন আরও শক্তিশালী হবে।
এই চুক্তি ভারতীয় প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণের বড় উদাহরণ বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত বাইরের প্রযুক্তিনির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব সামরিক উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র সংগ্রহেও গতি বাড়িয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই ৯৩ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি সেই ধারাকেই আরও এগিয়ে নিয়ে গেল।
