ওঙ্কার ডেস্ক : রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় একের পর এক বাধা ও দুই দেশের অনড় অবস্থানের মধ্যেও আশাবাদী আমেরিকা। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের মতে, ভারত থেকে আমদানিতে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের উদ্দেশ্য ছিল রাশিয়াকে ইউক্রেন হামলা থেকে বিরত থাকতে বাধ্য করা। কারণ, রাশিয়া থেকে ভারত প্রচুর পরিমানে তেল আমদানি করায় ইউক্রেন হামলার জন্য অর্থনৈতিক সাশ্রয় পাচ্ছে রাশিয়া। যদিও ভান্স রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের শান্তি প্রক্রিয়ায় আশাবাদী। তিনি মনে করেন, ট্রাম্প পুতিন সাক্ষাতের পর এই সংকটের বরফ গলবে।
সাংবাদিক বৈঠকে ভান্স বলেন, “ট্রাম্প আক্রমণাত্মক অর্থনৈতিক সুবিধা প্রয়োগ করেছেন, উদাহরণস্বরূপ, ভারতের উপর সেকেন্ডারি শুল্ক আরোপ, রাশিয়ানদের তাদের তেল অর্থনীতি থেকে ধনী হওয়া আরও কঠিন করার চেষ্টা করার জন্য।” রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আমেরিকার প্রচেষ্টার উপর আস্থা রেখে ভ্যান্স আরও বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি গত কয়েক সপ্তাহেই আমরা উভয় পক্ষ থেকেই কিছু উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখতে পেয়েছি।” তাঁর কথায়, “ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলার চেষ্টা করেছিলেন যে রাশিয়া যদি হত্যাকাণ্ড বন্ধ করে, তাহলে তাকে বিশ্ব অর্থনীতিতে পুনরায় আমন্ত্রণ জানানো যেতে পারে। কিন্তু যদি তারা হত্যাকাণ্ড বন্ধ না করে, তাহলে তারা বিচ্ছিন্নই থেকে যাবে।”
রাশিয়া থেকে ছাড়ের মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল কেনার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের দিকে চোখ ফেরানোর পর থেকে নয়াদিল্লি এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। মজার বিষয় হল, রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল এবং গ্যাসের বৃহত্তম আমদানিকারক যথাক্রমে চীন বা ইউরোপের বিরুদ্ধে কিন্তু কোনো পদক্ষেপ করেনি ওয়াশিংটন। এই মাসের শুরুতে, মার্কিন নেতা ঘোষণা করেছিলেন, ওয়াশিংটন ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক ৫০ শতাংশে বৃদ্ধি করবে, যার মধ্যে ভারতের রাশিয়ান অপরিশোধিত তেল কেনার শাস্তি হিসেবে আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক অন্তর্ভুক্ত।
ওয়াশিংটনের দাবি, ভারতের রাশিয়ার তেল কেনা মানেই ভারত ইউক্রেনে মস্কোর সামরিক অভিযানকে সমর্থন করছে। আমেরিকার এই অভিযোগ নয়াদিল্লি দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে। ভারত বলেছে, রাশিয়া সহ তার জ্বালানি ক্রয় সম্পূর্ণরূপে জাতীয় স্বার্থ এবং বাজারের ওঠা পড়ার উপর চালিত হয়। প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেন আক্রমণের জেরে পশ্চিমা দেশগুলি মস্কোর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলে রাশিয়ার সরবরাহ বন্ধ হয়। সে সময় বিশেষ ছাড়ে রাশিয়া থেকে তেল কেনার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। যা “জাতির স্বার্থে” বলে মনে করছে দিল্লি।
শনিবার নয়াদিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছেন, “ব্যবসা-বান্ধব আমেরিকান প্রশাসনের হয়ে কাজ করা লোকেরা অন্যদের ব্যবসা নিয়ে অভিযোগ করাটা মজার।” অপরিশোধিত তেল ইস্যুতে ভারতের বিরুদ্ধে মার্কিন সমালোচনার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জয়শঙ্কর কার্যত রসিকতাই করেন।
