ওঙ্কার ডেস্ক: ২৪ অক্টোবর শুক্রবার রাতে পৃথিবীর সব থেকে বড় যুদ্ধজাহাজ ‘জেরাল্ড আর ফোর্ড’-কে ভেনেজুয়েলার সমুদ্রতীরে পাঠানোর নির্দেশ দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর এতেই ক্ষুব্ধ ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। তাঁর কথায় আমেরিকা সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের এহেন কর্মকান্ডে আবার বিশ্ব রাজনীতি তোলপাড়।
ওপরদিকে পেন্টাগন মাদুরোর অভিযোগকে পুরোপুরি খারিজ করে জানিয়েছে, ক্যারিবিয়ান সাগরে যুদ্ধজাহাজ শুধুমাত্র মাদক এবং অনান্য অবৈধ জিনিসের পাচার আটকানোর প্রয়াস মাত্র। এতে যুদ্ধের কোনো সংকেত নয়। পেন্টাগনের মুখপাত্র সিয়েন প্যারনাল জানিয়েছেন, “প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলবর্তী এলাকায় বৃহৎ সামরিক নৌবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে”। পেন্টাগনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এ মোতায়েনকৃত বাহিনী দ্বারা মাদক পরিবহন সংক্রান্ত কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং প্রতিরোধ আরও কার্যকরভাবে করা সম্ভব হবে। তবে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এই পদক্ষেপকে ‘প্রচন্ড উত্তেজক’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এই নৌবাহিনী মোতায়েনকে দেশীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং সতর্ক করেছেন যে কোনো আক্রমণমূলক পদক্ষেপকে কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ শুধুমাত্র মাদক বিরোধী অভিযানের সীমাবদ্ধ নয়, বরং আঞ্চলিক রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার ও ভেনেজুয়েলার ওপর চাপ তৈরিরও উদ্দেশ্য থাকতে পারে। এ অভিযানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড সহ একাধিক যুদ্ধজাহাজ, পারমাণবিক সাবমেরিন এবং আধুনিক যুদ্ধবিমান সরবরাহ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ কমান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হল মাদক চোরাচালান রোধ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার করা। কিন্তু ইতিমধ্যেই ভেনেজুয়েলায় সামরিক মহড়া শুরু হয়েছে এবং সীমান্তে মিলিশিয়া বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই ধরনের নৌবাহিনী মোতায়েন আন্তর্জাতিক জলসীমা এবং সার্বভৌমত্ব সংক্রান্ত জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
এদিকে, দক্ষিণ আমেরিকার অন্যান্য দেশগুলোও এই সামরিক গতিবিধি গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য এই ঘটনাকে সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, সামরিক ও রাজনৈতিক এই মিশ্রণ দক্ষিণ আমেরিকার রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।
