ওঙ্কার ডেস্ক: চারতলা হোটেল, ৪০টি ঘর উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশীর ধারালি গ্রামে দাঁড়িয়ে ছিল জয়ভগবানের স্বপ্নের ঠিকানা। সেই হোটেলটাই মাটি ও জলের স্রোতে যেন পাতার মতো ভেসে গেল মাত্র কয়েক সেকেন্ডে। ভয়াল সেই রাতের কথা বলতে গিয়ে আজও কেঁপে ওঠেন জয়ভগবান। বলেন, “ভিডিওতে দেখছিলাম, কীভাবে আমার হোটেলটা নদীতে শুকনো পাতার মতো ভেসে যাচ্ছে, বিশ্বাস হচ্ছিল না চোখের”।
মঙ্গলবার গভীর রাত। সময় তখন ১টা ৪০ মিনিট। গ্রামে নাগদেবতার মন্দিরে মেলা উপলক্ষে ছিলেন জয়ভগবান। হঠাৎই বিকট শব্দ, চিৎকার আর ঢলের মতো জল-কাদা-পাথরের ধাক্কা। কয়েক মিনিটের মধ্যেই গোটা বাজার এলাকা তলিয়ে যায়, ধসে পড়ে দোকান, বাড়ি, হোটেল সব। “দৌড়ে ছুটে যাই বাড়ির দিকে। কিন্তু তার আগেই ঢল এসে পৌঁছেছে। প্রাণ নিয়ে কোনও মতে হরশিলে পৌঁছই,” জানান তিনি।
ঘণ্টা দুয়েক পরেই এক ভিডিওতে দেখা যায়, তাঁর হোটেল গড়িয়ে যাচ্ছে নদীর স্রোতে। যেটা একসময় ছিল ব্যবসা আর স্বপ্নের কেন্দ্রবিন্দু, সেটাই তখন নিস্তব্ধ ধ্বংসস্তূপ।তবে দুর্ঘটনার দিনে আশার আলো একটাই হোটেলটি ফাঁকা ছিল। বর্ষাকালে দর্শনার্থীর ভিড় কম। কর্মীরা ও ভাইপোও অনুপস্থিত ছিলেন সেদিন। সেই ‘শূন্যতাই’ যেন প্রাণ বাঁচিয়েছে অনেককে। অধিকাংশ জায়গায় জমে গিয়েছে ৫০-৬০ ফুট গভীর কাদামাটি। উদ্ধারকারী দল বলছে, স্রোতের মতো বয়ে চলা এই কাদা-জমায় কোনও হালকা সরঞ্জামে উদ্ধার কার্য সম্ভব নয়। এখনও নিখোঁজ ৬০-এর বেশি মানুষ। পাওয়া গিয়েছে দু’টি মৃতদেহ।
জয়ভগবান অবশ্য এখন শুধু কৃতজ্ঞ। প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন, এটুকুই তাঁর কাছে ঈশ্বরের আশীর্বাদ। স্বপ্নের হোটেল হয়তো নেই, কিন্তু জীবন আছে সেই অনিবার্য সত্যই যেন ধরে রেখেছে তাঁকে এই দুর্বিষহ সময়েও।
