ওঙ্কার ডেস্ক : উপরাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ঘিরে যে রহস্য দেখা দিয়েছে তাতে ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে বিচারপতি ভার্মার মুখ। সরাকারি ভাবে পদত্যাগের কারণ স্বাস্থ্যজনিত বলা হলেও, শাক দিয়ে যে মাছ ঢাকা যায় না সে কথা বুঝতে পারছে রাজনৈতিক মহল। ফলে উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড় কি বিচারপতি ভার্মাকে ঘিরে গড়ে ওঠা ষড়যন্ত্রের শিকার ? এই প্রশ্ন ঘুরছে এখন অভিজ্ঞ মহলে। শোনা যাচ্ছে, বিচারপতি ভার্মার বিষয়ে বিরোধীদের নোটিশ গ্রহণ করে জগদীপ ধনখড় কেন্দ্রের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে গিয়েছেন, তাই তাঁকে পদত্যাগ করতে হল।
একজন বিচারকের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ উদ্ধারের পর, বিরোধীদের চাপে একজন বিচারককে অপসারণের পদক্ষেপকে সায় দেওয়ার কারণে যে সব ঘটনাবলী একের পর এক তৈরি হচ্ছিল তার খেসারত দিতে হল ধনকড়কে, এমনটাই মনে করা হচ্ছে। সূত্র মারফত স্পষ্ট হচ্ছে যে বিরোধীদের নোটিশ গ্রহণ করে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান বিচার বিভাগে দুর্নীতিতে গেঁথে দেওয়া কেন্দ্রের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে গেছে। এর থেকে বেরানোর একমাত্র রাস্তা ছিল ধনকড়ের পদত্যাগ।
এর মূলে রয়েছে বিচারপতি যশবন্ত বর্মাকে অপসারণের প্রস্তাবের জন্য বিরোধীদের সমর্থিত নোটিশ। গতকাল রাজ্যসভার বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরু হলে, বিরোধী সাংসদরা নোটিশটি সংসদের উচ্চকক্ষে তোলেন। রাজ্যসভার চেয়ারম্যান জগদীপ ধনখড় নোটিশটি গ্রহণ করেন এবং সংসদের মহাসচিবকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলেন।
সূত্র জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ সরকারের সঙ্গে ভালোভাবে খাপ খায়নি। কারণ সরকারের উদ্দেশ্য বিচারকের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক আচরণ এবং বিচার বিভাগে দুর্নীতির নেতৃত্ব দেওয়া। এরপর ধনখড়ের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার পদক্ষেপ নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়। একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ হিসেবে ধনখড় বিষয়টি বুঝতে পেরেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
গতকাল রাত ৯.২৫ মিনিটে, উপরাষ্ট্রপতির অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেল রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর উদ্দেশ্যে লেখা একটি পদত্যাগপত্র শেয়ার করেন। যেখানে ধনকড় লেখেন, “স্বাস্থ্যসেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য এবং চিকিৎসা পরামর্শ মেনে চলার জন্য, আমি সংবিধানের ৬৭(ক) অনুচ্ছেদ অনুসারে অবিলম্বে কার্যকরভাবে ভারতের উপরাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করছি। আমার মেয়াদকালে আমাদের অটল সমর্থন এবং শান্ত, চমৎকার কর্মসম্পর্ক বজায় রাখার জন্য আমি আপনার মহামান্য রাষ্ট্রপতির প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি”। এই লেখায় তিনি প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রী পরিষদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এদিন ধনকড়ের সুস্বাস্থ্য কামনা করেছেন। বলেছেন, “তিনি বিভিন্ন পদে দেশকে সেবা করেছেন”। এই পরিস্থিতিতে সূত্র মারফত জানা গেছে, “স্বাস্থ্যের কারণ” উল্লেখ করে উপরাষ্ট্রপতির কোনও বিদায়ী ভাষণ নাও থাকতে পারে। তবে কংগ্রেসের প্রবীন নেতারা এই ঘটনাকে “অবর্ণনীয়” এবং “রহস্যে মোড়ানো একটি ধাঁধা” বলে বর্ণনা করেছেন। কেউ কেউ বলছেন রাজ্যসভার সদস্য এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির মন্তব্যে বিরক্ত হয়ে ধনকড় পদত্যেগ করেছেন। সোমবার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গের ভাষণের সময় হাউস নেতা যে পি নাড্ডা বলেছিলেন, “আমি যা বলি তা কেবল রেকর্ডে থাকবে”। নাড্ডার এই মন্তব্য রাজ্যসভার চেয়ারপার্সন ধনকড় অসম্মানিত হয়েছেন। কারণ রাজ্যসভার চেয়ারপার্সনেরই সভার কাজ পরিচালনা করার একমাত্র ক্ষমতা রয়েছে।
