ওঙ্কার ডেস্ক: বোম্বে হাই কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিল, দেশে না ফিরলে বিজয় মাল্যর কোনও আবেদনই শোনা হবে না। পলাতক শিল্পপতির বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার শুনানিতে আদালত জানায়, ভারতের বিচারব্যবস্থার আওতায় নিজেকে সমর্পণ না করে বিদেশে বসে আইনি লড়াই চালানো যাবে না। বিচারপতিরা বলেন, কোনও ব্যক্তি যদি নিজেকে দেশের আইন ও আদালতের বাইরে রাখেন, তাহলে সেই অবস্থায় আদালতের কাছ থেকে স্বস্তি আশা করা যুক্তিসঙ্গত নয়।
এই মামলায় বিজয় মাল্য দুটি আবেদন করেছিলেন। একটি আবেদনে তাঁকে ‘ফিউজিটিভ ইকনমিক অফেন্ডার’ হিসেবে ঘোষণা করার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করা হয়। অন্য আবেদনে ফিউজিটিভ ইকনমিক অফেন্ডারস অ্যাক্ট, ২০১৮-এর সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। আদালত জানায়, একইসঙ্গে দুটি আবেদন চালানো সম্ভব নয়। তার মধ্যে একটি বেছে নিতে হবে এবং অন্যটি প্রত্যাহার করতে হবে। তবে তার আগেই আদালতের স্পষ্ট অবস্থান, দেশে ফিরে আদালতের বিচারাধীন হতে হবে।
শুনানির সময় মালিয়ার আইনজীবী দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে যে আর্থিক দায়ের অভিযোগ রয়েছে, তার তুলনায় অনেক বেশি মূল্যের সম্পত্তি ইতিমধ্যেই উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু বিচারপতিরা এই যুক্তিতে সন্তুষ্ট হননি। আদালতের পর্যবেক্ষণ, আর্থিক সম্পত্তি উদ্ধার হওয়া আর ফৌজদারি মামলার দায় এড়িয়ে যাওয়া এক বিষয় নয়। ফৌজদারি অভিযোগের ক্ষেত্রে অভিযুক্তের শারীরিক উপস্থিতি ও বিচার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। আদালত আরও জানায়, আইন ও সংবিধান চ্যালেঞ্জ করার অধিকার সকলের থাকলেও, সেই অধিকার প্রয়োগ করতে হলে দেশের বিচারব্যবস্থার প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে থেকে নিজেকে পলাতক হিসেবে রাখার পর ভারতীয় আদালতের দ্বারস্থ হওয়া গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন বিচারপতিরা।
শেষ পর্যন্ত মামলার শুনানি স্থগিত রেখে আদালত মাল্যকে জানাতে বলেছে, কবে তিনি দেশে ফিরতে প্রস্তুত। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, পরবর্তী শুনানির আগে তাঁকে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে।
