ওঙ্কার ডেস্ক : অ্যাডিলেডের দ্বিতীয় একদিনের ম্যাচকে ঘিরে ভারতীয় ক্রিকেট দুনিয়ার নজর ছিল বিরাট কোহলির উপরেই। কিং কোহলির হাতে ছিল এক নয়, সম্ভাব্য সাত-সাতটি রেকর্ড গড়ার সুযোগ। কিন্তু ভাগ্য যেন তাঁর দিক থেকে মুখ সরিয়ে নিয়েছে এবার। ব্যাট হাতে নামতে না নামতেই ফের শূন্য রানে প্যাভিলিয়নে ফিরলেন তিনি। তবু তাঁর রেকর্ডসমৃদ্ধ যাত্রা এবং ক্রিকেট জীবনের উজ্জ্বল অধ্যায় আবারও আলোচনায় উঠে এল ক্রিকেট প্রেমীদের মুখে।
অ্যাডিলেডের মাটিতে নামার আগে কোহলির সামনে ছিল একাধিক ঐতিহাসিক মাইলফলক। ৬৮ রান করলেই তিনি ছুঁয়ে ফেলতে পারতেন শচীন তেন্ডুলকরের সর্বমোট একদিনের ও টি-২০ মিলিয়ে করা রানসংখ্যা। যা ছিল ১৮,৪৩৬। এছাড়া মাত্র ৫৪ রান দরকার ছিল কুমার সঙ্গাক্কারাকে টপকে ওডিআই ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হওয়ার জন্য। অ্যাডিলেডই আবার ছিল তাঁর প্রিয় মঞ্চ। সেখানে ১৭ ইনিংসে ৯৭৫ রান রয়েছে তাঁর নামে। আরও ২৫ রান করলে তিনিই হতেন প্রথম নন-অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটাস ম্যান, যিনি এই মাঠে একদিনের ক্রিকেটে হাজার রান পার করেছেন।
এছাড়াও, আর একটি সেঞ্চুরি এলেই ওডিআই-তে তাঁর শতরান হতো ৫২, যা তাঁকে শচীনের সব ফরম্যাট মিলিয়ে করা ৫১ শতরানকে ছাড়িয়ে বিশ্বরেকর্ডধারী করতে পারত। বিদেশের মাটিতে তাঁর শতরানের সংখ্যা ২৯, আর একটি শতরান পেলে শচীনকেও পেছনে ফেলতে পারতেন কিং কোহলি। পাশাপাশি, অ্যাডিলেডে ভারতীয় ব্যাটারদের মধ্যে সর্বাধিক রান করার রেকর্ডটিও তাঁর নাগালের মধ্যেই ছিল। মহেন্দ্র সিংহ ধোনির ২৬২ রানের তুলনায় কোহলির দরকার ছিল মাত্র ১৯ রান।
বৃহস্পতিবার অ্যাডিলেডে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের দুরন্ত সূচনায় ভারতের ইনিংস যখন কাঁপছে। খেলার শুরুতেই টস হারলেন ক্যাপ্টেন গিল। টস হেরে ভারতের ব্যাট করতে হলো।
শুভমন জানালেন, যদি টস জিততেন, বোলিং নিতেন। ভারতের ইনিংস শুরু মাত্র এক রানে। প্রথম ওভারে মিচেল স্টার্কের বলের দিশা খুঁজতে গিয়ে রোহিত শর্মা একাধিকবার পরাস্ত হলেও, রান আউট এড়াতে পেরেছেন। এরপর বার্টলেটের একটি মিড অফ বল খেলতে গিয়ে শুভমন ৯ রানে ক্যাচ হয়ে আউট হন, ধরলেন মিচেল মার্শ। ভারতের স্কোর তখন ১৭/১।অস্ট্রেলিয়ার অসাধারণ বোলিং এর তাল ভাঙতে পারেননি কোহলিও। মাত্র ৮ বল খেলেই শূন্য রানে আউট হন তিনি। স্কোরবোর্ডে তখন ভারতের রান ১৭/২। দর্শকাসনে হতাশা তখনও বিরাজমান। জোড়া আঘাতের পর রোহিত শর্মা ও শ্রেয়স আয়ার কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনেন দলে। তারা উইকেটে থাকা এবং দৌড়ে রানের দিকে বেশি মন দেন। রোহিতের ব্যাট থেকে আসে অর্ধশতরান। শতরান পূরণ হওয়ার আগেই মাঠ ছাড়লেন শর্মা। হেজলউডের হাতে ক্যাচে ৭৩ রানে আউট হলেন রহিত।
প্রায় দুই দশকের কাছাকাছি সময় ধরে কোহলি ভারতীয় ক্রিকেটকে যেভাবে বহন করেছেন, তাঁর আগ্রাসী মনোভাব মাঠে যেভাবে প্রতিফলিত হয়েছে তা আগেই দেখেছে বিশ্ব। কিন্তু কোহলির ক্যারিয়ার কেবল এক ম্যাচের ফলাফলের ওপর নির্ভরশীল নয়। অ্যাডিলেডে শূন্য রানে আউট হওয়া শুধু একদিনের হোঁচট, যা তাঁর দীর্ঘদিনের কৃতিত্বকে ম্লান করতে পারে না। তাঁর ভক্ত দের কাছে এখনও তিনি ‘কিং কোহলি’।
