নিজস্ব সংবাদদাতা : পূর্ব বর্ধমানের জনসভা থেকে শনিবার গুন্ডারাজের বিরুদ্ধে চরম হুশিয়ারি দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এই প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অমিত শাহ বলেন যে যখনই তিনি জনসভা থেকে তৃণমূল সমর্থিত গুন্ডাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন তখনই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ওপর রেগে যান।
অমিত শাহ বলেন, “প্রতিটি নির্বাচনেই তৃণমূল কংগ্রেস-সমর্থিত গুন্ডারা হিংসাত্মক কার্যকলাপের মাধ্যমে ভোট প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটায়। তাই প্রতিটি জনসভায় আমি এই গুন্ডাদের সতর্ক করে দিই যে, তারা যদি ভোট প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করে তবে তার ভয়াবহ পরিণতি হবে। আর যখনই আমি এই ধরনের সতর্কবার্তা দিই, মুখ্যমন্ত্রী আমার ওপর রেগে যান।” এরপর আরও বলেন, “কিন্তু আমি বলতে চাই যে, এখন আমি শুধু একটি সতর্কতামূলক বার্তা দিচ্ছি।” পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুরে একটি প্রচার সভায় ভাষণ দেওয়ার সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এই গুণ্ডারা যদি নিজেদের শুধরে না নেয়, তবে তাদের স্থান হবে জেলের পিছনে।”
এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ কয়েক মাস আগে পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের দলিত মেডিকেল ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রীর করা মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। মুখ্যমন্ত্রী তখন মহিলাদের সন্ধ্যা ৭টার পর বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দিয়েছিলেন। অমিত শাহ বলেন, “ভারতের মোট ২০টি রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টির মুখ্যমন্ত্রী রয়েছেন। আপনারা কি তাঁদের কাউকে মহিলাদের সন্ধ্যা ৭টার পর বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দিতে শুনেছেন ? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লজ্জিত হওয়া উচিত যে, একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রী হয়েও তিনি পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারেননি। কিন্তু বিজেপি ক্ষমতায় এলে, কোনো মহিলার দিকে খারাপ দৃষ্টিতে তাকালেও যে কাউকে সঙ্গে সঙ্গে জেলে পাঠানো হবে। মহিলারা মধ্যরাতের পরেও বাইরে বের হতে এবং অবাধে চলাফেরা করতে পারবেন।”
তিনি আরও বলেন যে, নতুন সরকার গঠিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে যুক্ত দুর্নীতি চক্রগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হবে। এবার আমাদের সরকার গঠন করতে দিন। এই সমস্ত চক্র বঙ্গোপসাগরে ডুবে যাবে।”