ওঙ্কার ডেস্ক: ভোটের আগেই বন্ধ করে দেওয়া হল নেপাল- ভুটান সীমান্ত। পরিসংখ্যান বলছে গত কয়েক বছরে নির্বাচনে অশান্তির গ্রাফ বেড়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সালে গিয়ে যা কিছুটা হলেও কমেছিল। আগামী সপ্তাহেই প্রথম দফার নির্বাচন। ২৩ এপ্রিল ভোট রয়েছে উত্তরবঙ্গ-সহ রাজ্যের ১৫২টি আসনে। তার আগেই বন্ধ করে দেওয়া হল ভুটান গেট। মূলত ভোটের সময়ে হিংসা রুখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন কর্তৃক দেওয়া এক বিবৃতিতে একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেখানে যেমন রয়েছে দ্বিস্তরীয় যাচাইকরণ পদ্ধতি তেমনই রয়েছে মদের দোকান বন্ধের নির্দেশ। একইভাবে সোমবার বিকেল থেকে ‘সিল’ করা হচ্ছে নেপাল ও বাংলাদেশ সীমান্তও। বন্ধ করা হচ্ছে অসম, বিহার ও ঝাড়খন্ড বরাবর সীমানা। বৈধ নথি ছাড়া ভুটানে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিক ও পর্যটকরা দেশে ফিরতে পারবেন না বলে জানানো হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুরু হয়েছে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি। রাতের বেলা সমস্ত এলাকায় আকাশে নজরদারি চালাবে নাইট ভিসন ড্রোন ক্যামেরা।
আগামী ২৩ এপ্রিল বাংলার ১৫২ টি বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচন প্রক্রিয়া অনুষ্ঠিত হবে। তার মধ্যে রয়েছে নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশ সীমান্ত এবং অসম ও বিহার সংলগ্ন ৫৪টি বিধানসভা কেন্দ্র। পুলিশ সুত্রে দাবি এই সকল স্থানগুলি অত্যন্ত উত্তেজনা প্রবণ। এই কারণে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে ২০ এপ্রিল সোমবার, বিকেল ৫টা থেকে আন্তর্জাতিক সীমান্ত এবং অঙ্গরাজ্যের সীমানা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত এবং অঙ্গরাজ্যের সীমানা খুলবে ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটের দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায়। ওই সময়ে বন্ধ থাকবে উত্তরের প্রায় ৪৪ কিলোমিটার ভারত-ভুটান সীমান্তও। ভুটানের ফুন্টশোলিং, সামতসে এবং লামোইজিংখা রুট বন্ধ থাকবে। ২৪ ঘণ্টার জন্য ভুটান সীমান্তে পাহারায় থাকবে বিএসএফ। অবশ্য জরুরী অবস্থার জন্য ছাড় থাকবে। ভুটানে অবস্থানরত ভারতীয়দের দেশে প্রবেশ করতে হলে দেখাতে হবে বৈধ নথি। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী যানবাহন তল্লাশির পর যাতায়াত করতে পারবে। ভুটান সীমান্তের মতো প্রথম দফার ভোটের আগে নেপাল উত্তরের সীমান্তও সিল করা হয়েছে। একই ভাবে জরুরী প্রয়োজন ব্যাতীত সীমান্ত পেরোনোর ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞাও জারি থাকবে।
সোমবার বিকেল থেকেই অসম ও বিহারের সীমানা এবং ঝাড়খন্ড বরাবর সীমানা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। রাজ্যের নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ রাখতে সর্বোচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকছে বলে জানিয়েছেন কমিশনের কর্তারা। এমনকি আইন অমান্য করলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন পরিচালক সংস্থা।