নিজস্ব সংবাদদাতা : ২৬শে-র ভোটে ৫০ জন বিধায়ককে আর টিকিট দিচ্ছে না তৃণমূল। অন্যদিকে ১০০ জন সংখ্যালঘু মুখকে প্রার্থী করবে জোড়াফুল শিবির। এমনটাই সুপারিশ করেছে ভোট-কৌশলী আই প্যাক।
আগামী বিধানসভা নির্বাচনের দুন্দুভী বাজতে বাকি আর হাতে গোনা কয়েকটা মাস। তার আগে ১৯৪টা বুথে সমীক্ষা সেরে ফেলেছে তৃণমূল। বলা ভালো ভোটকৌশলী আই প্যাক। ইতিমধ্যেই সেই সমীক্ষার রিপোর্ট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে জমা পড়েছে বলে সূত্রের খবর। কি রয়েছে এই রিপোর্টে ? সূত্রের খবর, ৫০ জন বিধায়ককে আর নতুন করে টিকিট না দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। সেই তালিকায় যেমন রয়েছেন নবীনরা, তেমনি বাদ যাননি প্রবীন প্রজন্মের কিছু নেতাও।
সূত্রের খবর, টিকিট পাচ্ছেন না :
* আশিষ বন্দোপাধ্যায়। রামপুর হাটের বিধায়ক। বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার। তার গায়ে দুর্নীতির কাদা নেই।
* চন্দ্রনাথ সিনহা, বোলপুরের বিধায়ক, রাজ্যের কারা মন্ত্রী, দুর্নীতিতে নাম জড়িয়েছে।
* হুমায়ুন কবির, ডেবরার বিধায়ক, প্রাক্তন আইপিএস, প্রাক্তন মন্ত্রী, বেফাঁস মন্তব্য করে দলকে অস্বস্তিতে ফেলেন।
* ফিরজা বিবি পাঁশকুড়া পশ্চিম বিধায়ক,শহীদ জনজী নামে পরিচিত।
* সৌমেন মহাপাত্র, তমলুক বিধায়ক, প্রাক্তন মন্ত্রী, শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ট বলে পরিচিত।
* মনোরঞ্জন ব্যাপারি বলাগড়ের বিধায়ক, লেখক, বেফাঁস মন্তব্য করে দলকে অস্বস্তিতে ফেলার অভিযোগ।
* কাঞ্চন মল্লিক, উত্তরপাড়ার বিধায়ক, তাঁর ভূমিকায় খুশি নয় দল।
* মনোজ তিওয়ারি, শিবপুরের বিধায়ক, ক্রিকেটার, নিজেই রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন।
* অশোক দেব, বজবজের বিধায়ক, কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন, কসবা ল কলেজের ধর্ষণ কান্ডে নাম জড়িয়েছে।
* চিরঞ্জিত চক্রবর্তী, বারাসতের বিধায়ক, আরজিকর নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলেন।
* মদন মিত্র, কামারহাটির বিধায়ক, প্রাক্তন পরিবহন মন্ত্রী, দলের লাইনের বাইরে গিয়ে মন্তব্য করার অভিযোগ।
* জীবন কৃষ্ণ সাহা, বড়ঞার বিধায়ক, নিয়োগ দুর্নীতিতে হাজতবাদ।
* কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী, ইংরেজবাজার বিধায়ক, কংগ্রেস ঘনিষ্টতার অভিযোগ।
* পরেশ অধিকারী, মেখলিগঞ্জের বিধায়ক, প্রাক্তন মন্ত্রী, নিয়োগ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত।
* রবিন্দ্রনাথ ঘোষ, নাটাবাড়ির বিধায়ক, প্রাক্তন মন্ত্রী।
এছাড়ও এই তালিকায় রয়েছেন : কাকদ্বীপের বিধায়ক মন্টুরাম পাখিরা, পাথরপ্রতিমার বিধায়ক সমীর কুমার জানা, চাপড়ার বিধায়ক রুখবানু রহমান, ইসলামপুরের বিধায়ক আব্দুল করিম চৌধুরী।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে ৪২জন সংখ্যালঘু মুখকে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল। তবে এবার রাজ্যে বিজেপিকে আটকাতে ১০০ জন সংখ্যালঘু মুখকে প্রার্থী করার পরামর্শ দিয়েছে আইপ্যাক।
