ওঙ্কার ডেস্ক: রাজ্য বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর থেকে ভেঙে খান খান হয়ে গেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এরই মধ্যে জোর জল্পনা উঠছে তৃণমূল কংগ্রেসের কংগ্রেসের যোগদান করার বিষয়ে। ঠিক তখনই কলকাতার ময়দানে দাঁড়িয়ে পাল্টা হুঙ্কার দিলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত ব্যানার্জি। তাঁর বক্তব্য, দিল্লিতে মমতা-অভিষেকের তড়িঘড়ি কংগ্রেস শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে যখন জোর জল্পনা শুরু হয়েছে যে – শেষমেশ নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে অনুগামীদের নিয়ে সরাসরি জাতীয় কংগ্রেসে যোগ দিতে চলেছেন পিসি-ভাইপো! ঠিক সেই মুহূর্তেই এই সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে অত্যন্ত কড়া ভাষায় নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করলেন ঋতব্রত।
মঙ্গলবার সনিয়া গান্ধীর বাসভবনে মমতার সাক্ষাৎ এবং বুধবার সকালে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে অভিষেকের দেড় ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠকের প্রেক্ষিতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করা হলে তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সুরে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “কে কার দুয়ারে গেল, বা কে কোথায় কার সঙ্গে দেখা করল – তা নিয়ে আমাদের মাথা ঘামানোর কোনও প্রয়োজন নেই এবং এই বিষয়ে আমরা কী-ই বা বলতে পারি? তবে একটা কথা খুব পরিষ্কার করে জানিয়ে দেওয়া ভাল, আমরা যাঁরা এখানে রয়েছি, আমরাই হলাম আসল এবং প্রকৃত ‘তৃণমূল কংগ্রেস’।” ঋতব্রতর সংযোজন, “আমরা কোনও অন্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মিশে যাচ্ছি না। আমি এই মুহূর্তে এটুকু বলতে পারি, আমাদের সঙ্গে থাকা বিধায়কদের সংখ্যাটা ইতিমধ্যেই ৬৪ পেরিয়ে গিয়েছে। আগামীকাল যখন নতুন আরও বিধায়ক আমাদের শিবিরে এসে যোগ দেবেন। স্বাভাবিকভাবে আমরাই যেখানে মূল দল, সেখানে অন্য কারও গতিবিধি নিয়ে আমরা ভাবছি না।” ঋতব্রতর দাবি, দিনের পর দিন আমাদের এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীতে বেড়েই চলেছে বিধায়কের সংখ্যা। আগে এই সংখ্যা ৫৮ ছিল এখন সেটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪ জন।
কিন্তু রাজনীতির অলিন্দে যদি সত্যি সত্যিই আগামী দিনে প্রতীকচিহ্ন ও দলের রাশ নিয়ে সংঘাত চরম আকার ধারণ করে, তবে কি ‘জোড়াফুল’ প্রতীক নিজেদের দখলে রাখতে নির্বাচন কমিশন বা আদালতের দরবারে আলাদা আইনি লড়াইয়ে নামবেন ঋতব্রতরা? এই জল্পনা অবশ্য এখনই পুরোপুরি খোলসা করতে চাননি তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়ক। শুধু বলেন, কালকের কথা আগে থেকে ১০০ শতাংশ বলা যায় না। যা পরিস্থিতি তৈরি হবে, সেই অনুযায়ী দেখা যাবে।