ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে রেল পরিকাঠামোর সম্প্রসারণে কেন্দ্রীয় সরকার বড়সড় অগ্রগতির দাবি করেছে। রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, গত এক দশকেরও বেশি সময়ে রাজ্যে রেল প্রকল্পে বাজেট বরাদ্দ, নতুন প্রকল্পের অনুমোদন এবং নির্মাণকাজে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে। রেল মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে মোট ৬৩টি রেল প্রকল্প অনুমোদিত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৪টি নতুন রেললাইন নির্মাণ প্রকল্প, ৪টি গেজ পরিবর্তন প্রকল্প এবং ৪৫টি ডাবলিং বা দ্বিতীয় লাইন নির্মাণ প্রকল্প। এই সমস্ত প্রকল্প মিলিয়ে মোট ৫,১৪৮ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ বা উন্নয়নের কাজ চলছে এবং এর জন্য সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৩,৪৩৩ কোটি টাকা।
লিখিত উত্তরে রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০০৯ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের জন্য রেলের গড় বার্ষিক বাজেট বরাদ্দ ছিল ৪,৩৮০ কোটি টাকা। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে সেই বরাদ্দ বেড়ে হয়েছে ১৪,২০৫ কোটি টাকা, যা আগের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি। কেন্দ্রের দাবি, এই বাড়তি বরাদ্দের ফলে রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রেল প্রকল্পে কাজের গতি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা একাধিক প্রকল্পও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে। মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত মোট ১,৭২১ কিলোমিটার রেললাইন কমিশন করা হয়েছে বা পরিষেবার জন্য চালু হয়েছে। একই সময়ে এই প্রকল্পগুলিতে মোট ২৭,৯৪৯ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, ধাপে ধাপে এই প্রকল্পগুলির কাজ সম্পূর্ণ হলে রাজ্যের রেল যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে এবং যাত্রী ও পণ্য পরিবহণ উভয় ক্ষেত্রেই সুবিধা বৃদ্ধি পাবে।
লিখিত উত্তরে আরও জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের মে মাস থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে সমন্বয় আরও উন্নত হওয়ায় জমি অধিগ্রহণের কাজ উল্লেখযোগ্যভাবে দ্রুত এগোতে শুরু করেছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কারণে আটকে থাকা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রেল প্রকল্পে অগ্রগতি হয়েছে বলে জানায় কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রক। এর মধ্যে রয়েছে কালিয়াগঞ্জ-বুনিয়াদপুর নতুন রেললাইন, নৈহাটি-রানাঘাট তৃতীয় রেললাইন, সাঁইথিয়া বাইপাস, আনাড়া রেল ফ্লাইওভার, গৌরীনাথধাম রেল ফ্লাইওভার এবং নবদ্বীপধাম-নবদ্বীপধাম নতুন রেললাইন প্রকল্প। কেন্দ্রের দাবি, এসব প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণের অগ্রগতির ফলে নির্মাণকাজও দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। রেল প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নে গতি আনতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে একটি রাজ্যস্তরের টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। এই টাস্ক ফোর্সের কাজ হবে বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা, প্রকল্পের পথে থাকা প্রশাসনিক ও কারিগরি জটিলতা দ্রুত সমাধান করা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা।