ওঙ্কার ডেস্ক: ওড়িশা সরকারের দেখানো পথেই এবার খেলাধুলার সঙ্গে পর্যটনের যোগসূত্র তৈরি করতে বড় পরিকল্পনা করছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্যের পর্যটন দফতর বাংলা তথা দেশের টেবিল টেনিস দলকে স্পনসর করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মঙ্গলবার এক সাংবাদিক বৈঠকে এই পরিকল্পনার কথা জানান রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ। মন্ত্রী জানান, রাজ্যের টেবিল টেনিস দলকে স্পনসর করার পাশাপাশি জাতীয় টেবিল টেনিস দলকেও স্পনসর করার বিষয়ে আলোচনা শুরু হবে। এই সংক্রান্ত প্রস্তাব রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁর কাছে পাঠানো হবে। তাঁর মাধ্যমেই পরবর্তী পদক্ষেপ ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে এখনও গোটা বিষয়টি প্রাথমিক পর্যায়েই রয়েছে।
জানা গিয়েছে, পর্যটন দপ্তরের সঙ্গে ইতিমধ্যেই প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। সংস্থার পক্ষ থেকে একটি বিস্তারিত প্রস্তাব তৈরি করে পর্যটন দপ্তরের কাছে পাঠানো হবে। একইভাবে পর্যটন দফতর নিজেদের প্রস্তাব তৈরি করবে। এরপর ক্রীড়ামন্ত্রীর মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে স্পনসরশিপের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে।
জাতীয় দলের ক্ষেত্রে অবশ্য আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে। কারণ বর্তমানে সর্বভারতীয় টেবিল টেনিস সংস্থাকে ঘিরে প্রশাসনিক জটিলতা রয়েছে। সেই সমস্যা মিটিয়ে নতুন বোর্ড নির্বাচিত হওয়ার পর জাতীয় দলের স্পনসরশিপ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এগোনোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পর্যটনমন্ত্রী। এই উদ্যোগের পিছনে শুধু খেলাধুলাকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্দেশ্য নেই, পর্যটনের প্রচারও রয়েছে। টেবিল টেনিসের মতো জনপ্রিয় খেলাকে সামনে রেখে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় পশ্চিমবঙ্গের পর্যটনস্থলগুলির প্রচার করতে চাইছে পর্যটন দপ্তর। আন্তর্জাতিক ও জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতাগুলিতে দলের সঙ্গে রাজ্যের পর্যটনের ব্র্যান্ডিং হলে বাংলার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে আরও বেশি মানুষের কাছে তথ্য পৌঁছতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এর আগে ২০১৮ সাল থেকে ভারতীয় হকি দলের স্পনসর হিসেবে রয়েছে ওড়িশা সরকার। নবীন পট্টনায়েকের আমলে শুরু হওয়া সেই উদ্যোগ পরবর্তী সরকারও চালিয়ে যাচ্ছে এবং ২০৩৬ সালের অলিম্পিক পর্যন্ত স্পনসরশিপ বজায় রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই মডেলকেই সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গ সরকার টেবিল টেনিসকে বেছে নিতে চাইছে।