ওঙ্কার ডেস্ক: তামিলনাড়ুর বিধায়কদের জন্য বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয়। রাজ্যের ২৩৪ জন বিধায়কই সরকারি গাড়ি পাবেন। গাড়ির জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচের জন্যও ভাতা দেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিধায়কদের নিজেদের বিধানসভা এলাকায় নিয়মিত যাতায়াত করতে হয়। সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা শুনতে এবং এলাকার কাজকর্ম পরিদর্শন করতেই এই সরকারি গাড়ির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। গাড়ি, জ্বালানি খরচ এবং বিধায়কের সচিবের বেতন বাবদ প্রতি মাসে এক লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী।
বুধবার বিধানসভায় বিজয় বলেন, ‘জনগণের সমস্যা সমাধানের জন্য বিধায়কদের নিয়মিত নিজেদের এলাকায় যেতে হয়। সরকারি গাড়ি থাকলে প্রশাসনিক কাজ আরও স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্তভাবে করা সম্ভব হবে।’
তামিলনাড়ু সরকারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, বর্তমান বিধানসভায় বেশ কয়েকজন প্রথমবারের মতো বিধায়ক হয়েছেন। তাঁদের অনেকেই সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য তাঁদের গাড়ির প্রয়োজন রয়েছে। এর আগে ভিসিকে বিধায়ক জোথিমণি বিধায়কদের প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোগত সহায়তার অভাবের কথা তুলে ধরেছিলেন। তিনি বিধায়কদের সরকারি গাড়ি দেওয়ার আবেদন জানান। এরপরই সরকারের তরফে এই ঘোষণা করা হয়।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রত্যেক বিধায়ক মাসে ৭৫ হাজার টাকা ভাতা পাবেন। এই অর্থ চালকের বেতন, জ্বালানি এবং গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণের কাজে ব্যবহার করা যাবে। এছাড়াও সরকারি কাজের জন্য সচিব নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রত্যেক বিধায়ককে ২৫ হাজার টাকা করে রাজ্য সরকারের অনুদান দেওয়া হবে।
সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বিজয় বলেন, বিধায়কদের নিজেদের এলাকায় গিয়ে মানুষের অভিযোগ শুনতে হয়। পাশাপাশি সরকারি প্রকল্পগুলির কাজও তাঁদের নজরদারি চালাতে হয়। আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা এবং প্রথমবার নির্বাচিত বিধায়কদের দায়িত্ব পালনে সাহায্য করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরই শাসক দলের বিধায়কদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। টিভিকে বিধায়ক সাবরি ইয়ঙ্গরন নিজের অভিজ্ঞতার কথাও বিধানসভায় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তাঁর নিজের কোনও গাড়ি বা চাকরি ছিল না। দলের নেতা এখন তাঁদের চাকরি ও গাড়ি দুটোই দিয়েছেন। তিনি এতদিন ট্রেনে করে চেন্নাই আসতেন। বিধানসভায় অটো করে এলে পুলিশ তাঁকে বিধায়ক বলে বিশ্বাস করত না। পরিচয়পত্র দেখাতে হত বলেও জানান তিনি।