ওঙ্কার ডেস্ক: রাজ্যে শুরু হতে চলেছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা কর্মসূচি। আগামী মঙ্গলবার থেকেই পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে ঘরে ঘরে গিয়ে ভোটার তালিকার তথ্য যাচাই ও নতুন নাম অন্তর্ভুক্তির কাজ শুরু করবে নির্বাচন কমিশন। এই বিশেষ উদ্যোগের লক্ষ্য ভোটার তালিকাকে আরও নিখুঁত, হালনাগাদ ও ত্রুটিমুক্ত রাখা।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ৫ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত বুথ স্তরের কর্মীরা প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে ভোটারদের তথ্য সংগ্রহ করবেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন বা সংযোজন করবেন। যাঁরা নতুন ভোটার হিসেবে নাম তুলতে চান, তাঁদেরও এই সময়ের মধ্যেই ফর্ম পূরণ করতে হবে। অন্যদিকে, রাজ্যের বাইরে থাকা বা কাজের সূত্রে অনুপস্থিত ভোটারদের জন্য অনলাইন ফর্মের ব্যবস্থা থাকলেও, প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে তা এখনই চালু হচ্ছে না বলে জানা গিয়েছে।
কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ভোটার তালিকার তথ্য যাচাইয়ের জন্য ২০০২ সালের পুরনো তালিকার সঙ্গে বর্তমান তথ্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৩২ শতাংশ ভোটারের তথ্য মিলিয়ে দেখা হয়েছে। রাজ্যজুড়ে প্রায় সাত কোটিরও বেশি ভোটার এই বিশেষ কর্মসূচির আওতায় পড়ছেন। ফলে গোটা রাজ্য জুড়ে বিশাল প্রশাসনিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশিত হবে ৯ ডিসেম্বর। সেই তালিকা নিয়ে আপত্তি বা দাবি জানানোর সময়সীমা থাকবে ৯ ডিসেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। সমস্ত অভিযোগ ও সংশোধনের কাজ শেষ করে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি।
নির্বাচন কমিশনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “এই বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনার মূল উদ্দেশ্য হল মৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া, স্থানান্তরিতদের তথ্য হালনাগাদ করা এবং নতুন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটারদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা।” তিনি আরও জানান, এর মাধ্যমে আগামী লোকসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের ভোটার তালিকা একদম নির্ভুল অবস্থায় আনা সম্ভব হবে।
তবে রাজনৈতিক মহলে এই প্রক্রিয়া ঘিরে কিছুটা উৎকণ্ঠাও দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন দল এই উদ্যোগের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, পুরনো তথ্যের সঙ্গে তুলনা করতে গিয়ে অনেক ভোটারের নাম ভুলবশত বাদ পড়ে যেতে পারে।
তবু প্রশাসনের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, প্রত্যেক ভোটারকে যথাযথভাবে জানানো হবে এবং কোনও নাম বা তথ্য বাদ গেলে তা সংশোধনের সুযোগও দেওয়া হবে। তাই রাজ্যের প্রতিটি ভোটারকে সতর্ক থেকে ভোটার তালিকা যাচাইয়ে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।
এই বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে রাজ্যের ভোটার তালিকায় নতুন করে যুক্ত হবেন হাজার হাজার নতুন ভোটার। ফলে আসন্ন নির্বাচনের আগে এটি নিঃসন্দেহে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে চলেছে।
