ওঙ্কার ডেস্ক: কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের মানুষদের জন্য দুর্গাপুজোর আগে আবহাওয়া বিশেষ আনন্দের নয়। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, অষ্টমীর দিন পর্যন্ত কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় বৃষ্টিপাত চলতে পারে। উত্তরবঙ্গেও কোথাও কোথাও বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ এবার দুর্গাপুজো মূলত বৃষ্টির মধ্যে উদযাপন করতে হবে।
দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই আগামী সাত দিন বৃষ্টির প্রকোপ থাকবে। আবহাওয়া দফতর সূত্রের খবর অনুসারে, কলকাতা সহ প্রায় সব জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি এবং বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। এই পরিস্থিতি চলবে ২৩ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল পর্যন্ত।
কলকাতায় প্রতিদিন হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি এবং বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ২৩ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়ো হাওয়া বইতে পারে। হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৩০–৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। একই অবস্থা হাওড়া ও হুগলিতেও বজায় থাকবে।
উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় টানা সাত দিন বৃষ্টি এবং বজ্রঝড়ের সতর্কতা জারি হয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় প্রথম দিন থেকেই একাধিক স্থানে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বজ্রঝড় ও ঘণ্টায় ৪০–৫০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়াও বইতে পারে।
মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে আগামী কয়েকদিন ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথম দিন থেকেই বজ্রবিদ্যুৎ ও ঝড়ো হাওয়া ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বইতে পারে। কৃষিজীবী এবং উপকূলবর্তী এলাকার মানুষের জন্য বড় সতর্কবার্তা জারি করেছে প্রশাসন।
বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বীরভূম ও বর্ধমান জেলাতেও বজ্রঝড় ও বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি করা হয়েছে। বাঁকুড়ায় একাধিক স্থানে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। পুরুলিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম ও নদিয়াতেও বজ্রঝড়ের সঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি চলবে।
মুর্শিদাবাদে প্রতিদিন হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও বজ্রঝড়ের ঝুঁকি রয়েছে। নদিয়াতেও বজ্রঝড় ও বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে আগামী চার দিন।
মৎস্যজীবীদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরের উত্তর অংশ এবং পশ্চিমবঙ্গ-ওড়িশা উপকূলে ২৩ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সমুদ্র উত্তাল থাকতে পারে। বাতাসের বেগ ঘণ্টায় ৪৫ কিলোমিটারের বেশি হতে পারে। সমুদ্রের অশান্ত পরিস্থিতির কারণে এই সময়ে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করেছেন, খোলা মাঠে বজ্রপাতের ঝুঁকি বেশি থাকায় গাছ বা বৈদ্যুতিক খুঁটির নিচে আশ্রয় নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। জলাশয়ের সংস্পর্শ এড়ানো অত্যন্ত জরুরি।
