ওঙ্কার ডেস্ক: রাজ্যের ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের কর্মীসংকট দূর করতে বড়সড় নিয়োগের ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। সোমবার বিধানসভায় পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানান, রাজ্যের বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদে মোট প্রায় ১১ হাজার শূন্যপদে কর্মী নিয়োগ করা হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এবার থেকে এই নিয়োগ আর জেলা স্তরে নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি)-র মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে সম্পন্ন হবে।
দিলীপ জানান, রাজ্যের বিভিন্ন পঞ্চায়েত দপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে বিপুল সংখ্যক পদ খালি পড়ে রয়েছে। এর ফলে প্রশাসনিক কাজের গতি ব্যাহত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে। সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতেই সরকার একযোগে বিপুল সংখ্যক কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি আরও জানান, এতদিন পঞ্চায়েত আইনের আওতায় জেলা ভিত্তিক নিয়োগের ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু নতুন পদ্ধতিতে নিয়োগের জন্য আইনে সংশোধন আনা হবে। আইন সংশোধনের পরই পিএসসির মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। সরকারের লক্ষ্য, চলতি বছরের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া শুরু করা এবং যত দ্রুত সম্ভব শূন্যপদগুলি পূরণ করা। মন্ত্রী বলেন, রাজ্যের পঞ্চায়েত ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করে তুলতে পর্যাপ্ত কর্মী থাকা অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে বহু পঞ্চায়েতে কর্মীসংকটের কারণে উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক কাজ এবং সাধারণ মানুষের বিভিন্ন পরিষেবা প্রদানে সমস্যা হচ্ছে। নতুন নিয়োগের মাধ্যমে সেই ঘাটতি অনেকটাই পূরণ হবে বলে সরকারের আশা।
এই ঘোষণার পর চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই উৎসাহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি চাকরির অপেক্ষায় থাকা বহু যুবক-যুবতীর কাছে এই ১১ হাজার পদে নিয়োগের ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।