ওঙ্কার ডেস্কঃ বিষ্ণুপুরের মাধবগঞ্জের রথযাত্রা একেবারেই স্বতন্ত্র। এখানে রথে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা আরোহণ করেন না। জানা যায়, মল্লরাজাদের আমল থেকে ৩৬১ বছর ধরে একই নিয়মে পিতলের ঐতিহ্যবাহী রথে বিরাজ করেন শ্রীশ্রী রাধামদন গোপাল ঠাকুর জিউ। এখানে জগন্নাথ কৃষ্ণ রূপে পূজিত হন।
সেই পরম্পরা অক্ষুণ্ণ রেখেই বৃহস্পতিবার ভোরে শুরু হল মাধবগঞ্জ ১১ পাড়া রথযাত্রা উৎসব। ভোর থেকেই হরিনাম সংকীর্তন, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি আর ‘জয় গোপাল’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। রথের রশিতে টান দিতে ভিড় জমান হাজার হাজার ভক্ত ও পুণ্যার্থী।
ইতিহাস অনুযায়ী, ১৬৬৫ খ্রিস্টাব্দে মল্লরাজাদের সময় রানি শিরোমণি দেবীর ইচ্ছায় মাধবগঞ্জে নির্মিত হয় পাথরের পাঁচচূড়া মন্দির। সেই মন্দিরেই প্রতিষ্ঠিত হন শ্রীশ্রী রাধামদন গোপাল ঠাকুর জিউ। একই সময়ে তৈরি হয় পিতলের সুদৃশ্য রথ। তারপর থেকে একদিনের জন্যও রীতির পরিবর্তন হয়নি।
মাধবগঞ্জ ১১ পাড়া রথযাত্রা ষোলআনা কমিটির সম্পাদক দীপক দে বলেন, “৩৬১ বছরের এই রথ উৎসব বিষ্ণুপুরবাসীর আবেগ ও গর্ব। সারা বছর মানুষ এই দিনের অপেক্ষায় থাকেন। সোজা রথ থেকে উলটো রথ পর্যন্ত ৯ দিন ধরে পূজা, ভোগ, মহাপ্রসাদ ও নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকে। প্রতিদিন সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজারেরও বেশি মানুষ রাজভোগ গ্রহণ করেন।
স্থানীয় ভক্ত মধুমিতা রক্ষিত, কৃষ্ণা দে ও মধুমতি পালদের কথায়, “আমাদের কাছে এই রথ শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, পারিবারিক মিলনমেলা। সারা বছর এই দিনের অপেক্ষায় থাকি।