ওঙ্কার ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার আমতলায় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঁচতলা দলীয় কার্যালয়ে প্রশাসনের বুলডোজার অভিযান ঘিরে শনিবার ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। সকাল থেকেই প্রশাসনের আধিকারিক, পুলিশ ও বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তারক্ষী এলাকায় মোতায়েন ছিলেন। পরে ভারী যন্ত্র এনে ভবনটি ভাঙার কাজ শুরু করা হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হলেও নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসন আগে থেকেই কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
প্রশাসনের দাবি, ভবনটি প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছিল। এই নির্মাণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলছিল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে একাধিকবার নোটিস পাঠানো হয় এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথি ও অনুমোদনের কাগজপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি শুনানিরও সুযোগ দেওয়া হয়। তবে প্রশাসনের বক্তব্য, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব বা বৈধ নথি জমা না পড়ায় শেষ পর্যন্ত আইন মেনেই ভাঙার সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।
অভিযানের সময় গোটা এলাকা ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়। সাধারণ মানুষের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করা হয় এবং কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। দমকল কর্মীরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা পুরো ভাঙার কাজ তদারকি করেন যাতে অভিযান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির একাংশ প্রশাসনের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে দাবি করেছে, বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীদের একাংশ এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। তবে প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এটি সম্পূর্ণভাবে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ এবং আদালত ও সংশ্লিষ্ট নিয়ম মেনেই অভিযান চালানো হয়েছে।