ওঙ্কার ডেস্ক: উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলার চা-বাগান অধ্যুষিত এলাকায় শুক্রবার রাজনৈতিক সভা করেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে চা-বাগান অঞ্চলকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দলীয় সংগঠন আরও মজবুত করার বার্তা দেন তিনি। সভামঞ্চ থেকে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করে অভিষেক বলেন, আলিপুরদুয়ারের রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে বিজেপিকে সম্পূর্ণভাবে মুছে ফেলতে হবে এবং তার জন্য তৃণমূল কর্মীদের ঘরে ঘরে পৌঁছে যেতে হবে।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ বা এক দেশ এক ভোটের ধারণার বিরোধিতা করে তিনি বলেন, এই ধরনের সিদ্ধান্ত গণতন্ত্রকে দুর্বল করবে এবং সাধারণ মানুষের ভোটাধিকারকে খর্ব করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেস কখনও এই ধরনের প্রস্তাব মেনে নেবে না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে আসে রাজ্যের স্বার্থ রক্ষার কথা এবং দিল্লির চাপের কাছে নতি স্বীকার না করার বার্তা।
চা-বাগান এলাকার শ্রমিকদের উদ্দেশে অভিষেক বলেন, এই অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত থেকেছেন এবং তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার জন্য একাধিক প্রকল্প চালু হয়েছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজ্য সরকার চা-শ্রমিক পরিবারগুলোর পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ভোটের সময় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও ক্ষমতায় গিয়ে তারা চা-শ্রমিকদের সমস্যার কোনও স্থায়ী সমাধান করেনি।
সভায় দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বুথভিত্তিক সংগঠন আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, প্রতিটি বুথে মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে এবং সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের কথা সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে। আলিপুরদুয়ার ও সংলগ্ন চা-বাগান এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের ফল আরও ভালো করতে এই অঞ্চল থেকেই লড়াই শুরু করার ডাক দেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, উত্তরবঙ্গের চা-বাগান এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সফর ও বক্তব্য তৃণমূল কংগ্রেসের আগাম নির্বাচনী কৌশলেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। চা-শ্রমিকদের মন জয় এবং সংগঠন মজবুত করার লক্ষ্যেই এই সভা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
