ওঙ্কার ডেস্ক: ‘নির্বাচনের সময় দলীয় কর্মীদের উপর হামলা হয়েছে’, এই অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। রাজনৈতিক হিংসা রুখতে প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে দাবি তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। তাঁর আর্জি, এই সব হিংসার ঘটনার বিরুদ্ধে অবিলম্বে পদক্ষেপ করা হোক। তাঁর দলের কর্মীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছেন নওদার জয়ী এজেইউপি প্রার্থী। তাঁর আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছেন বিচারপতি। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে আদালত সূত্রে খবর।
উল্লেখ্য, গত ২৩ এপ্রিল রাজ্যের প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচন হয়। ওই দিন ১৫২ বিধানসভা আসনে ভোট গ্রহণ হয়। প্রথম দফার ভোটের দিন হুমায়ুন কবীরের উপর হামলা হয়। এমনকি তাঁর গাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয়। দলের কর্মীদেরও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। হুমায়ুনের অভিযোগ, এই ঘটনায় পুলিশ কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যানের দাবি, নির্বাচনের সময় অশান্তির ঘটনা সংবিধানের ১৪, ১৯ ও ২১ অনুচ্ছেদের বিরোধী৷ কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ ওই মামলা শুনবে বলে জানা গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে বিতর্কিত চরিত্র হুমায়ুন কবীর। তিনি বিদায়ী শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক ছিলেন। কিন্তু মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ নির্মাণ করতে চেয়ে দলের রোষানলে পড়েন তিনি। আর সে কারণে জোড়াফুল শিবির ছাড়েন ‘একগুঁয়ে’ হুমায়ুন। নিজেই বাবরি মসজিদ নির্মাণ শুরু করেন। তার মাঝেই নতুন দল আমজনতা উন্নয়ন পার্টি তৈরি করেন। ছাব্বিশের নির্বাচনে মুর্শিদাবাদের রেজিনগর ও নওদা দুটি কেন্দ্রে প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন হুমায়ুন। বিস্ময়কর ভাবে দুটিতেই তিনি জয়ী হয়েছেন। তবে রাজ্যের কোথাও আমজনতা উন্নয়ন পার্টির কোনও প্রার্থী জিততে পারেননি।