ওঙ্কার ডেস্কঃ সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগে অবশেষে পুলিশের জালে বীরভূমের চালকল সিন্ডিকেটের মাথা আহমদপুর অঞ্চল তৃণমূলের সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য। একদা জেলা রাজনীতির দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডলের অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও ‘ছায়াসঙ্গী’ ছিলেন এই রাজীব।
আহমদপুরের একটি রাইস মিলে অতর্কিতে হানা দেয় পুলিশ। সেখানেই হাতেনাতে রাজীব এবং তাঁর ব্যবসায়িক পার্টনার চন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের বিরুদ্ধে সাঁইথিয়া থানায় দু’টি এবং পুরুলিয়ার পারা থানায় একটি এফআইআর দায়ের করেছিল খাদ্য দফতর। সব মিলিয়ে প্রায় ১১ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন সরকারি চাল খোলা বাজারে পাচার ও আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে ধৃতদের বিরুদ্ধে। সূত্রের খবর, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৩৪ কোটি টাকা।
খাদ্য দফতর সূত্রে খবর, রাজ্য সরকারের সঙ্গে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী কৃষকদের থেকে কেনা ধান থেকে চাল তৈরি করার জন্য রাজীবদের চালকলে পাঠানো হয়েছিল। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, সেই ধান থেকে চাল তৈরি করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সরকারি গুদামে ফেরত দেওয়ার কথা। কিন্তু সাঁইথিয়ার দু’টি ও পুরুলিয়ার একটি মিল মিলিয়ে প্রায় ১১হাজার ৩০০ মেট্রিক টন চাল সরকারি খাতায় আর জমা পড়েনি। রাজীবরা কোনও সদুত্তর দিতে না পারায়, অবশেষে খাদ্য দফতরের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা, জালিয়াতি এবং অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইনের কঠোর ধারায় মামলা রুজু করে এই দু’জনকে গ্রেফতার করে।
এখন প্রশ্ন উঠছে, এই কেলেঙ্কারি কয়েক বছর আগের হলেও এতদিন কেন চুপ ছিল খাদ্য দফতর? এক আধিকারিকের স্পষ্ট স্বীকারোক্তি, ‘এতদিন মাথার ওপর প্রভাবশালী নেতার হাত ও রাজনৈতিক দাপট থাকায় চাইলেও কোনও পদক্ষেপ করা যায়নি।’