ওঙ্কার ডেস্ক: মাতৃ ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্যের স্বাস্থ্যদপ্তর। সরকারি হাসপাতালগুলিতে সন্তান প্রসবের পর মায়েদের আরও নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ এবং ব্যক্তিগত পরিবেশে নবজাতককে স্তন্যপান করানোর সুযোগ করে দিতে রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে পর্যায়ক্রমে ‘ব্রেস্টফিডিং কর্নার’ বা স্তন্যপান করানোর জন্য বিশেষ নির্দিষ্ট স্থান তৈরি করা হবে। বিশ্ব স্তন্যপান সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, সন্তান জন্মের পরপরই মায়ের দুধ শিশুর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি। জন্মের প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যে নবজাতককে মাতৃদুগ্ধ পান করানো গেলে তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং ভবিষ্যতে নানা ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকিও অনেকটাই কমে। অথচ সরকারি হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে অনেক ক্ষেত্রেই পর্যাপ্ত ব্যক্তিগত পরিসরের অভাব থাকায় বহু মা সংকোচবোধ করেন। সেই সমস্যার সমাধান করতেই হাসপাতালগুলিতে পৃথক ব্রেস্টফিডিং কর্নার গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, প্রথম পর্যায়ে রাজ্যের একাধিক সরকারি হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে এই বিশেষ কর্নার তৈরি করা হবে। সেখানে এমন পরিবেশ গড়ে তোলা হবে যাতে মায়েরা অন্যের উপস্থিতিতে অস্বস্তি বোধ না করে নিশ্চিন্তে নবজাতককে স্তন্যপান করাতে পারেন। প্রয়োজনে পর্দা বা আলাদা ঘেরা জায়গার ব্যবস্থা থাকবে, যাতে মায়েদের গোপনীয়তা বজায় থাকে এবং তাঁরা মানসিকভাবে স্বস্তি অনুভব করেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, শুধু পরিকাঠামো তৈরি করলেই হবে না, মাতৃদুগ্ধ পান সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করাও অত্যন্ত জরুরি। অনেক পরিবারেই এখনও শিশুকে জন্মের পরপরই কৃত্রিম দুধ বা অন্য খাবার দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে, যা চিকিৎসকদের মতে ঠিক নয়। তাই হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে নতুন মায়েদের নিয়মিত পরামর্শ ও সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হবে।