ওঙ্কার ডেস্ক: বর্ধমান থেকে গ্রেফতার হওয়া সন্দেহভাজন জঙ্গি হামিম মণ্ডলকে ঘিরে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)-এর তদন্তে উঠে এসেছে, হামিম শুধু একটি জঙ্গি নেটওয়ার্কের সক্রিয় সদস্য হিসেবেই কাজ করছিল না, বরং পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে তথ্য সংগ্রহের কাজেও যুক্ত ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই সে সংগঠিতভাবে বিভিন্ন সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করছিল এবং সেই তথ্য সীমান্তপারের জঙ্গি সংগঠনের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
তদন্তকারী সূত্রের দাবি, হামিমের মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস এবং অনলাইন যোগাযোগের তথ্য বিশ্লেষণ করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলেছে। সেই সূত্র ধরেই জানা গিয়েছে, তার যোগাযোগের পরিধি কেবল পশ্চিমবঙ্গের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এনক্রিপ্টেড মাধ্যমে বার্তা আদানপ্রদান এবং নির্দেশ গ্রহণের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, হামিমের সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের যোগাযোগ ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, যাকে তদন্তকারীরা ‘ভাট্টি গ্যাং’ নামে চিহ্নিত করছেন। এই গ্যাংয়ের সদস্যদের মাধ্যমে হামিম স্থানীয় স্তরে বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা পেত কি না, কিংবা অপরাধচক্রটির মাধ্যমে লজিস্টিক, আশ্রয় বা অন্যান্য সুবিধা নেওয়া হতো কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এসটিএফের দাবি, হামিম একা কাজ করছিল না। তার সঙ্গে যুক্ত একাধিক সহযোগীর খোঁজ ইতিমধ্যেই মিলেছে। তদন্তের স্বার্থে কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং একাধিক ব্যক্তিকে নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে। তদন্তকারীদের ধারণা, হামিমের সহযোগীরা তথ্য সংগ্রহ, যোগাযোগ রক্ষা, নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সাংগঠনিক কাজে সাহায্য করত। এই সহযোগীদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশা করছে তদন্তকারী সংস্থা।