ওঙ্কার ডেস্ক: মালদহে পুলিশের অভিযানে সামনে এল নিষিদ্ধ কাশির সিরাপের অবৈধ কারবারের বড় চক্র। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে জেলার একাধিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা, নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ, সোনা এবং বিভিন্ন নথি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, দীর্ঘদিন ধরেই সংগঠিতভাবে এই অবৈধ ব্যবসা চালানো হচ্ছিল এবং তার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মালদহ ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার স্পেশাল অপারেশন টিমের যৌথ অভিযানে প্রথমে মঙ্গলবাড়ি এলাকার একটি বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। সেখানে গিয়ে তদন্তকারীরা বিপুল পরিমাণ নগদ টাকার সন্ধান পান। টাকার পরিমাণ এতটাই বেশি ছিল যে তা গোনার জন্য বিশেষ কারেন্সি কাউন্টিং মেশিনের ব্যবস্থা করতে হয়। রাতভর চলে টাকা গণনার কাজ। ভোর প্রায় চারটে পর্যন্ত গণনা শেষে উদ্ধার হওয়া নগদের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ কোটি ৪০ লক্ষ ৯৭ হাজার ৩৮০ টাকা। পাশাপাশি ওই বাড়ি থেকে প্রায় ২০ গ্রাম সোনা, একটি ল্যাপটপ এবং তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে এমন বেশ কিছু নথিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
একই সময়ে খইহট্টা এলাকার একটি গুদামঘরে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার হয় প্রায় ৯ হাজার বোতল নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ। তদন্তকারীদের দাবি, উদ্ধার হওয়া সিরাপগুলির বাজারমূল্য ২০ লক্ষ টাকারও বেশি। অভিযোগ, এই সিরাপগুলিতে মাদকজাতীয় উপাদান থাকায় সেগুলি অবৈধভাবে মজুত করে বিভিন্ন জায়গায় পাচারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। বাজেয়াপ্ত হওয়া সমস্ত সিরাপ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে এবং সেগুলির উৎস ও সরবরাহের পথ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া তিন অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, এই বিপুল নগদ অর্থ কোথা থেকে এসেছে, কারা এই কারবারের মূলচক্রী এবং রাজ্যের বাইরে বা সীমান্তবর্তী এলাকায় এই নিষিদ্ধ সিরাপ পাচারের কোনও নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে কি না। তদন্তে ধৃতদের ব্যাংক লেনদেন, মোবাইল ফোন, ডিজিটাল ডিভাইস এবং আর্থিক নথিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া ল্যাপটপ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে বলেও মনে করছেন তদন্তকারীরা।