ওঙ্কার ডেস্ক: তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম ভেঙে পড়ার মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর রাজ্যের উদ্ধার ও দুর্যোগ মোকাবিলা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করার পথে বড় পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার তিনি জানান, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত, দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ধার অভিযান চালানোর জন্য অত্যাধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে রাজ্যের বিভিন্ন উদ্ধারকারী সংস্থাকে উন্নত যন্ত্রপাতি এবং বিশেষ প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তারাতলার দুর্ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে যে জটিল উদ্ধার অভিযানের জন্য আরও উন্নত প্রযুক্তি ও বিশেষায়িত সরঞ্জামের প্রয়োজন রয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে পড়া মানুষকে দ্রুত উদ্ধার করতে হাইড্রোলিক কাটার, ভারী ইস্পাত ও কংক্রিট কাটার আধুনিক যন্ত্র, বিশেষ উদ্ধারকারী যান, সার্চ ক্যামেরা, সেন্সর-ভিত্তিক অনুসন্ধান ব্যবস্থা এবং অন্যান্য অত্যাধুনিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হবে। পাশাপাশি রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, দমকল এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মীদের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, শুধু যন্ত্রপাতি কেনাই নয়, জরুরি পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দফতরের মধ্যে দ্রুত সমন্বয় গড়ে তুলতে একটি সমন্বিত রেসকিউ মেকানিজম তৈরি করা হবে। যাতে পুলিশ, দমকল, এসডিআরএফ, স্বাস্থ্য দফতর এবং প্রশাসনের অন্যান্য সংস্থা একসঙ্গে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করতে পারে।
বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তারাতলার উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া সেনাবাহিনী, এনডিআরএফ, এসডিআরএফ, দমকল, পুলিশ এবং অন্যান্য উদ্ধারকারী দলের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলেই অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও দীর্ঘ সময় ধরে উদ্ধারকাজ চালানো সম্ভব হয়েছে। এদিকে, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। কোথায় নির্মাণ সংক্রান্ত গাফিলতি বা নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে যাতে কোনও নির্মাণ প্রকল্পে নিরাপত্তা বিধি অমান্য না হয়, সেদিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হবে। প্রয়োজনে নির্মাণ সংক্রান্ত নিয়ম আরও কঠোর করা হবে এবং কোনও ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কড়া প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি স্পষ্ট করে দেন।