ওঙ্কার ডেস্ক: লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও ভুয়ো উপভোক্তার অভিযোগ সামনে আসতেই বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠনের নির্দেশ দিল রাজ্য সরকার। সোমবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, সম্প্রতি প্রশাসনিক স্তরে যাচাই-বাছাইয়ের সময় একাধিক ভুয়ো অ্যাকাউন্টের সন্ধান মিলেছে, যেখানে মহিলাদের জন্য নির্ধারিত সরকারি অনুদানের টাকা পুরুষদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
রাজ্য সরকারের দাবি, নতুন করে উপভোক্তাদের তথ্য যাচাইয়ের সময় দেখা যায়, বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য ভুয়ো তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অন্তত ২২টি সন্দেহজনক অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। অভিযোগ, এই অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অনুদানের অর্থ তোলা হয়েছে। ঘটনায় ইতিমধ্যেই কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের আওতায় বহু ক্ষেত্রে প্রকৃত উপভোক্তার পরিবর্তে অন্য ব্যক্তিরা সুবিধা পেয়েছেন। এমনকি মৃত ব্যক্তি, ভুয়ো পরিচয়ধারী এবং পুরুষদের নামেও টাকা পৌঁছনোর অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের দাবি, এই অনিয়ম বিচ্ছিন্ন নয়, বরং এর পিছনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করে থাকতে পারে। সেই কারণেই বিষয়টির গভীরে পৌঁছতে সিট গঠন করা হয়েছে। তদন্তকারী দল ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, আবেদনপত্র, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য এবং উপভোক্তাদের পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখা শুরু করেছে। কোথায় এবং কীভাবে যাচাই প্রক্রিয়ায় ফাঁক থেকে গিয়েছিল, কারা এই জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত এবং সরকারি তহবিলের কত টাকা বেআইনিভাবে তোলা হয়েছে, তা খুঁজে বের করাই এখন তদন্তকারীদের প্রধান লক্ষ্য।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, প্রকৃত উপভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা করতে এবং সরকারি প্রকল্পে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে রাজ্যজুড়ে নতুন করে তথ্য যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় প্রশাসনিক আধিকারিকদেরও সতর্ক করা হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম আর না ঘটে। মুখ্যমন্ত্রী এদিন কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, যাঁরা ভুয়ো পরিচয়ে বা বেআইনিভাবে সরকারি সুবিধা নিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, প্রকল্পের প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কোনওরকম অসুবিধার মুখে পড়তে হবে না। বরং যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত উপভোক্তাদের তালিকা আরও নির্ভুল করা হবে।