ওঙ্কার ডেস্ক: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ৮০টি আসন পেয়ে বিরোধী দলের আসনে বসেছে তৃণমূল কংগ্রেস। বাংলায় বিজেপি সরকার গঠনের এখনও এক মাস পেরোয়নি। তার আগে তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহ শুরু হয়ে গিয়েছে। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত করেছেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে। কিন্তু বালিগঞ্জের বিধায়ককে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মেনে নিতে নাও পারেন তৃণমূলের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়ক। ইতিমধ্যে তা নিয়ে জোড়াফুল শিবিরের অন্দরে চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে।
সূত্রের খবর, বিক্ষুব্ধ বিধায়করা নিজেদেরকে আসল তৃণমূল হিসেবে দাবি করতে পারেন। আর সেই দাবি করে নিজেদের মনোনীত বিধায়ককে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য স্পিকারের কাছে আর্জি জানাতে পারেন। উল্লেখ্য, রবিবার ৮০ জন নির্বাচিত বিধায়ককে বৈঠকে ডেকেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেখানে হাজির হয়েছিলেন মাত্র ২০ জন। বাকি ৬০ বিধায়ক কেন হাজির হননি তা নিয়ে তৈরি হয় জল্পনা।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ৬০ বিধায়কের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনপ্রতিনিধি মমতা-অভিষেক নির্বাচিত শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে মেনে নিতে নাও পারেন। সংসদীয় গণতন্ত্রের নিয়ম মেনে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে তাঁরাই স্পিকারের কাছে বিকল্প বিরোধী দলনেতার নাম প্রস্তাব করতে পারেন। আর বিক্ষুব্ধরা যদি এটা করে তাহলে সেটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে এক বিরাট ধাক্কা হবে।
পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন রাজ্যে সংসদীয় অনাচারের শুরু করেছিল তৃণমূল। নিয়ম অনুযায়ী বিধানসভায় প্রধান বিরোধী দল পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান পদটি পায়। কিন্তু ১০ বছর আগে বিরোধী দল কংগ্রেস মনোনীত করেছিল এই পদের জন্য বিধায়ক সুখবিলাস বর্মাকে। কিন্তু নিয়মের তোয়াক্কা না করে সে সময় তৃণমূল বিরোধীদের সেই জায়গা দেয়নি। শাসকদল পিএসি চেয়ারম্যান করে মানস ভুঁইয়াকে। তৃণমূলের সেই কুকর্মের চাকা এখন উল্টোদিকে ঘুরতে শুরু করেছে।