ওঙ্কার ডেস্ক: শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী চন্দ্রনাথ রথের নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় শোকস্তব্ধ বিজেপি নেতৃত্বের পাশাপাশি উঠে এসেছে ঘটনার শেষ মুহূর্তের এক শিহরণ জাগানো বিবরণ। বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ জানিয়েছেন, মৃত্যুর ঠিক আগে পর্যন্ত চন্দ্রনাথ রথের সঙ্গে তাঁর ফোনে কথা হচ্ছিল। সেই কথোপকথনের মাঝেই আচমকা অস্বাভাবিক শব্দ, গোঙানির আওয়াজ এবং বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির ইঙ্গিত পান তিনি।
শঙ্কর ঘোষের দাবি, সেদিন রাজনৈতিক কর্মসূচি, অমিত শাহের সফর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান-সহ একাধিক সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে তাঁদের আলোচনা চলছিল। কথোপকথনের মাঝেই আচমকা চন্দ্রনাথের কণ্ঠস্বর অস্পষ্ট হয়ে যায় এবং ফোনের ওপারে অস্বাভাবিক আওয়াজ শোনা যায়। প্রথমে বিষয়টি স্পষ্ট না হলেও, পরপর যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ে। কিছুক্ষণ পর এক অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে ফোনে তিনি জানতে পারেন, চন্দ্রনাথ এবং গাড়ির ড্রাইভারকে গুলি করা হয়েছে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিজেপি শিবিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শুভেন্দু অধিকারীকেও দ্রুত বিষয়টি জানানো হয়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। রাতভর হাসপাতাল চত্বরে উৎকণ্ঠা, শোক এবং ক্ষোভে ভেঙে পড়েন দলের নেতা-কর্মীরা।
বিজেপির অভিযোগ, এই হামলা কোনও আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। মধ্যমগ্রামের কাছে বাড়ি ফেরার পথে চন্দ্রনাথ রথের গাড়ি লক্ষ্য করে দুষ্কৃতীরা গুলি চালায়। একাধিক রাউন্ড গুলিতে গুরুতর জখম হন তিনি। গাড়ির চালকও গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুত পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
চন্দ্রনাথ রথ দীর্ঘদিন ধরে শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহকারী হিসেবে কাজ করছিলেন এবং বিজেপির সাংগঠনিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। তাঁর মৃত্যুতে শুধু ব্যক্তিগত নয়, রাজনৈতিক স্তরেও বড় ধাক্কা লেগেছে বলে মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের। বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, রাজ্যে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক হিংসা ও বিরোধী কণ্ঠস্বর দমনের পরিবেশ এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে বড় কারণ হতে পারে।