ওঙ্কার ডেস্ক: বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের একটি নতুন প্রশাসনিক বিজ্ঞপ্তিকে কেন্দ্র করে রাজ্যের চিকিৎসক মহল এবং মেডিক্যাল পড়ুয়াদের মধ্যে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি কলেজ কর্তৃপক্ষ একটি নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছে, কলেজ চত্বরের ভিতরে বা কলেজের পরিচয় ব্যবহার করে কোনও ধরনের বিক্ষোভ, আন্দোলন, অবস্থান, মিছিল, স্লোগান বা প্রতিবাদমূলক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করা যাবে না। নির্দেশিকা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
কলেজ প্রশাসনের দাবি, চিকিৎসা পরিষেবা এবং শিক্ষার পরিবেশ নির্বিঘ্ন রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে আন্দোলন বা বিক্ষোভের কারণে রোগী পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সেই কারণেই ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং স্বাভাবিক কাজকর্ম অব্যাহত রাখার স্বার্থে এই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য পড়াশোনা ও চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করা, তাই এমন কোনও কর্মসূচি গ্রহণ করা উচিত নয় যা এই দুই ক্ষেত্রের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এই নির্দেশিকা প্রকাশ্যে আসতেই পড়ুয়াদের একাংশ এবং বিভিন্ন চিকিৎসক সংগঠনের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তাঁদের অভিযোগ, সংবিধান নাগরিকদের শান্তিপূর্ণভাবে মতপ্রকাশ ও প্রতিবাদের অধিকার দিয়েছে। সেই অধিকারকে সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেই তাঁদের দাবি। অনেকের মতে, কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রশাসনিক নির্দেশিকার মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি করতে পারে না। ফলে এই বিজ্ঞপ্তিকে কেন্দ্র করে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার সীমা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
চিকিৎসক সংগঠনগুলির একাংশের বক্তব্য, অতীতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে মেডিক্যাল পড়ুয়া এবং জুনিয়র চিকিৎসকেরা আন্দোলনের মাধ্যমে নিজেদের দাবি তুলে ধরেছেন। সেই প্রেক্ষাপটে এমন নির্দেশিকা ভবিষ্যতে প্রতিবাদ কর্মসূচিকে প্রভাবিত করতে পারে বলে তাঁদের আশঙ্কা। যদিও প্রশাসনের দাবি, এই সিদ্ধান্ত কোনও নির্দিষ্ট সংগঠন বা আন্দোলনকে লক্ষ্য করে নেওয়া হয়নি।