ওঙ্কার ডেস্ক: কার্গিল বিজয় দিবস উপলক্ষে লাদাখের দ্রাসে কার্গিল ওয়ার মেমোরিয়ালে শহিদ জওয়ানদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি বলেন, ভারতের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার বিরুদ্ধে পাকিস্তান যদি ভবিষ্যতে কোনও ধরনের দুঃসাহসিক পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করে, তবে তার জবাব এমনভাবে দেওয়া হবে, যা তাদের কল্পনারও বাইরে। দেশের নিরাপত্তা নিয়ে ভারত কোনও আপস করবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি।
কার্গিল যুদ্ধের ২৭তম বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজনাথ সিং বলেন, “১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধ শুধু একটি সামরিক সংঘর্ষ ছিল না, এটি ছিল ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাহস, আত্মত্যাগ এবং অদম্য দেশপ্রেমের এক অনন্য উদাহরণ”। তিনি বলেন, “দেশের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করা বীর সেনানীদের অবদান কোনওদিন ভোলা যাবে না। তাঁদের আত্মবলিদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে অনুপ্রাণিত করবে”। প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ভারত সবসময় শান্তিতে বিশ্বাস করে। তবে সেই শান্তিকে কখনও দুর্বলতা হিসেবে দেখা উচিত নয়। ভারত প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায়, কিন্তু দেশের নিরাপত্তা ও সীমান্ত রক্ষার প্রশ্নে কোনওরকম আপস করা হবে না। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সময়ে ভারতীয় সেনাবাহিনী আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী, আধুনিক এবং যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
এদিন ভাষণে রাজনাথ সিং ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, “এই অভিযানের মাধ্যমে ভারত দেখিয়ে দিয়েছে যে, দেশের বিরুদ্ধে কোনওরকম আগ্রাসন বা সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না। প্রয়োজন হলে দ্রুত এবং কঠোর পদক্ষেপ নিতে ভারত সক্ষম”। “এই অভিযান ভারতের সামরিক দক্ষতা, কৌশলগত প্রস্তুতি এবং আত্মবিশ্বাসের প্রতীক বলে”, মন্তব্য করেন তিনি। পাকিস্তানের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে রাজনাথ সিং বলেন, সীমান্তে অশান্তি সৃষ্টি বা অনুপ্রবেশের চেষ্টা করলে তার উপযুক্ত এবং কঠোর জবাব দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান যদি সত্যিই শান্তি চায়, তবে সন্ত্রাসবাদকে মদত দেওয়া বন্ধ করতে হবে। কারণ সন্ত্রাসবাদ শুধু ভারতের জন্য নয়, গোটা বিশ্বের জন্যই বড় হুমকি। এদিন তিনি পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে) প্রসঙ্গও উত্থাপন করেন। তাঁর বক্তব্য, পাকিস্তানের সঙ্গে যদি কোনওদিন আলোচনা হয়, তবে তা শুধুমাত্র পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর নিয়ে হবে। পিওকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং সেই অবস্থান থেকে ভারত কখনও সরে আসবে না বলেও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।