ওঙ্কার ডেস্ক: দেশে প্রথমবারের মতো ডিজিটাল পদ্ধতিতে জনগণনার অংশ হিসেবে চালু হয়েছে ‘সেল্ফএনুমারেশন’ বা স্ব-তথ্য নথিভুক্তকরণের ব্যবস্থা। এর ফলে গণনাকারী বাড়িতে পৌঁছানোর আগেই নাগরিকরা চাইলে অনলাইনের মাধ্যমে নিজের এবং পরিবারের সমস্ত প্রয়োজনীয় তথ্য নিজেরাই জমা দিতে পারবেন। কেন্দ্রের এই উদ্যোগের লক্ষ্য জনগণনার প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত, নির্ভুল এবং প্রযুক্তিনির্ভর করে তোলা। কিভাবে এই অনলাইন ফর্ম পূরণ করবেন তা দেখে নিন।
এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে প্রথমে নির্ধারিত সরকারি পোর্টালে গিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে নিবন্ধনের পর ওটিপি যাচাই করে লগ-ইন করতে হবে। এরপর পরিবারের প্রধান বা অনুমোদিত সদস্যকে পরিবারের ঠিকানা, বসবাসের ধরন, পরিবারের সদস্যসংখ্যা-সহ প্রাথমিক তথ্য দিতে হবে। তারপর একে একে পরিবারের প্রতিটি সদস্যের নাম, বয়স, লিঙ্গ, জন্মতারিখ, বৈবাহিক অবস্থা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা, মাতৃভাষা, ধর্ম, প্রতিবন্ধকতা সংক্রান্ত তথ্য এবং অন্যান্য নির্ধারিত তথ্য পূরণ করতে হবে। প্রতিটি তথ্য ভালোভাবে যাচাই করার পর চূড়ান্তভাবে ফর্ম জমা দিলে একটি ইউনিক সেল্ফ এনিউমারেশন আইডি তৈরি হবে। এই ইউনিক আইডি ভবিষ্যতে গণনাকারী বাড়িতে এলে তাঁকে দেখাতে হবে। এর ফলে পুনরায় একই তথ্য দেওয়ার প্রয়োজন হবে না এবং তথ্য যাচাইয়ের কাজও সহজ হবে। তবে কেউ যদি অনলাইনে স্ব-তথ্য নথিভুক্ত না করেন, সেক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ে গণনাকারী বাড়িতে গিয়ে সরাসরি তথ্য সংগ্রহ করবেন। অর্থাৎ অনলাইন এবং অফলাইন দুই ধরনের ব্যবস্থাই চালু থাকবে, যাতে কোনও নাগরিক জনগণনার আওতার বাইরে না থাকেন।
সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, এই প্রক্রিয়ায় তথ্য দেওয়ার সময় কোনও ধরনের নথি বা পরিচয়পত্র আপলোড করার প্রয়োজন নেই। নাগরিকদের নিজেদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ফর্ম পূরণ করা যাবে। তবে সমস্ত তথ্য যথাযথভাবে এবং সতর্কতার সঙ্গে পূরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কারণ ভুল তথ্য দিলে পরবর্তী পর্যায়ে সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে। ডিজিটাল সেল্ফ এনুমারেশন চালু হওয়ার ফলে জনগণনার তথ্য সংগ্রহের কাজ অনেক বেশি স্বচ্ছ, নির্ভুল এবং সময়সাশ্রয়ী হবে বলে অভমত অনেকের। একই সঙ্গে তথ্য প্রক্রিয়াকরণও দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার ফলে নাগরিকদের অংশগ্রহণও সহজ হবে এবং প্রশাসনের ওপর চাপ কিছুটা কমবে। দেশের জনসংখ্যা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্ভুল তথ্য সংগ্রহে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।