ওঙ্কার ডেস্ক: মালদহ জেলার কালিয়াচকে সাতজন বিচার বিভাগীয় আধিকারিককে ঘেরাও ও হেনস্তার ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, এটি একটি পরিকল্পিত চক্রান্ত, যার পিছনে রয়েছে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন। তাঁর দাবি, রাজ্যে অশান্তি সৃষ্টি করে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করা এবং শেষপর্যন্ত রাষ্ট্রপতি শাসনের পথ প্রশস্ত করাই এই চক্রান্তের মূল উদ্দেশ্য।
মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘিতে এক নির্বাচনী সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন আচরণবিধি কার্যকর থাকায় প্রশাসনের উপর তাঁর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ নেই। এই পরিস্থিতিতে বিচার আধিকারিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনেরই ছিল বলে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে তিনি সাধারণ মানুষকে সংযত থাকার এবং কোনও প্রকার উস্কানিতে পা না দেওয়ার জন্য আবেদন জানান।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বিচার প্রক্রিয়ায় যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ থাকা স্বাভাবিক। তবে সেই ক্ষোভকে কেন্দ্র করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া বা বিচারকদের ঘেরাও করা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি রাজ্যবাসীকে সতর্ক করে বলেন, এই ধরনের ঘটনা রাজ্যের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে এবং বিরোধীরা সেই সুযোগ নিতে চাইছে।
এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি পরোক্ষভাবে অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমীন এবং আম আদমি উন্নয়ন পার্টি-এর দিকেও ইঙ্গিত করেন। তাঁর অভিযোগ, বাইরের প্রভাব এবং ‘বিশ্বাসঘাতক’দের মদতে সাধারণ মানুষকে উসকে দিয়ে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছে। তিনি বলেন, একদিকে হায়দরাবাদ থেকে আগত নেতৃত্ব, অন্যদিকে দলত্যাগী নেতাদের কার্যকলাপ—সব মিলিয়ে একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে রাজ্যে অশান্তি তৈরির জন্য।
প্রসঙ্গত, এবারের নির্বাচনে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বিভিন্ন কেন্দ্রে অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমীন ও আম আদমি উন্নয়ন পার্টি- যৌথভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে, যা রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এই আবহেই মালদহের ঘটনা ঘিরে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
এছাড়াও তিনি নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে নিয়োগপ্রাপ্ত নতুন মুখ্যসচিবের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর মতে, প্রশাসনিক স্তরে পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থতার পরিচয় মিলেছে, যা এই ঘটনার তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সবশেষে, মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের মানুষকে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কোনও প্ররোচনায় পা না দিয়ে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই সমস্যার সমাধান করতে হবে এবং রাজ্যের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এখন সবার প্রধান দায়িত্ব।