ওঙ্কার ডেস্ক: নদিয়ার কালীগঞ্জে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। শাসক-বিরোধী তরজার মধ্যেই এবার ঘটনাটির কড়া নিন্দা করলেন প্রবীণ আইনজীবী ও সিপিএমের রাজ্যসভার সাংসদ বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। রাজনৈতিক মতাদর্শে মহুয়া মৈত্রের সঙ্গে তাঁর বিস্তর মতপার্থক্য থাকলেও, কোনও জনপ্রতিনিধির উপর এ ধরনের আক্রমণকে তিনি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেছেন।
সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, রাজনৈতিক জীবনে মতবিরোধ থাকাটা স্বাভাবিক। এক দলের সঙ্গে অন্য দলের আদর্শগত সংঘাতও গণতন্ত্রেরই অংশ। কিন্তু সেই মতপার্থক্য কখনওই ব্যক্তিগত আক্রমণ, অপমান বা শারীরিক হেনস্তার রূপ নিতে পারে না। একজন নির্বাচিত সাংসদের উপর ডিম ছোড়া বা তাঁকে অপদস্থ করার চেষ্টা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর মতে, এ ধরনের ঘটনা রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে কলুষিত করে এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তিনি আরও বলেন, বিরোধিতা করার অসংখ্য গণতান্ত্রিক উপায় রয়েছে। কোনও রাজনৈতিক নেতার বক্তব্য বা অবস্থানের বিরোধিতা করতে হলে সভা, মিছিল, বিক্ষোভ, স্মারকলিপি কিংবা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের পথ বেছে নেওয়া উচিত। কিন্তু কাউকে হেনস্তা করে বা অপমান করার মাধ্যমে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা গণতন্ত্রের চেতনাকে দুর্বল করে। এ ধরনের প্রবণতা কোনও সুস্থ সমাজের পক্ষে কাম্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ঘটনার সূত্রপাত হয় কালীগঞ্জে একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে। সেখানে দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়েছিলেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। অভিযোগ, কর্মসূচি চলাকালীন দলীয় কার্যালয়ের বাইরে একদল বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে কালো পতাকা দেখাতে শুরু করে এবং পরে ডিম নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নিরাপত্তার স্বার্থে মহুয়া মৈত্রকে দীর্ঘ সময় দলীয় কার্যালয়ের ভিতরেই থাকতে হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও কিছু সময়ের জন্য এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর মহুয়া মৈত্র অভিযোগ করেন, এই হামলা পুর্ব পরিকল্পিত এবং তৃণমূল সাংসদকে ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে আগাম প্রশাসনকে জানানো হলেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।