ওঙ্কার ডেস্ক: রাজ্যে বিজেপি শাসনভার নেওয়ার সময় কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে বঙ্গে অপরাধ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টোলারেন্স পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথগ্রহনের পরই প্রাক্তন শাসকদলের সব দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে। পুরনিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে অবৈধ নির্মানে জড়িত তৃণমূল নেতাদের গ্রেফতার করেছে একের পর এক। শহর কলকাতা থেকে শুরু করে বাদ যায়নি জেলার নেতারাও। এমনকি ঘসফুল শিবিরের হয়ে তোলাবাজি করা গুন্ডারাও বিজেপির ‘জিরো টোলারেন্স’ নীতির আওয়ায় গ্রেফতার হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণের মাত্র ১১ দিনের মাথায় প্রায় ১৩ জন তৃণমূল নেতাকে আটক করা হয়েছে। আর এতেই ভোটের পরেও কিছুটা মুখ থুবরে পড়েছে পনেরো বছর যাবৎ বাংলায় রাজত্ব করা তৃণমূল শিবির।
রাজ্যে গত ১১ দিনে একের পর এক তৃণমূল নেতা ও জনপ্রতিনিধির গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক রাজনৈতিক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থার অভিযানে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার হয়েছেন ক্যানিং পূর্বের যুব তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহান ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত জিয়াউল শেখ, বিধাননগরের কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তী, মালদহের পঞ্চায়েত প্রধান মমতা মণ্ডল ও তাঁর স্বামী বাবলু মণ্ডল, উত্তর দিনাজপুরের কাউন্সিলর তৌফিক আলম-সহ একাধিক নেতা। এছাড়াও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় গুলি চলার ঘটনায় তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার ভাই শেখ রিয়াজুদ্দিনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া নেতাদের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, জমি দখল, হামলা, খুনের চেষ্টা, বেআইনি অস্ত্র রাখা ও ভোট-পরবর্তী হিংসায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ক্যানিংয়ের জিয়াউল শেখের বিরুদ্ধে ভোটগণনার দিন বিজেপি কর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। সেই ঘটনার তদন্তে নেমেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় এবং পুলিশের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভও দেখানো হয়।
অন্যদিকে বিধাননগরের কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোর করে টাকা তোলার অভিযোগ সামনে এসেছে। তদন্তকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়ছিল। একইভাবে সন্দেশখালিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের জমি দখল ও ভয় দেখানোর অভিযোগে আরও কয়েকজন তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।
মালদহে সমবায় ব্যাঙ্ক দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া মমতা মণ্ডল ও বাবলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ তছরুপের অভিযোগ উঠেছে। উত্তর দিনাজপুরের কাউন্সিলর তৌফিক আলমের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা-সহ একাধিক ফৌজদারি মামলা রয়েছে বলে দাবি পুলিশের। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় শেখ রিয়াজুদ্দিনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংঘর্ষের সময় গুলি চালনার অভিযোগ রয়েছে।
এই ধারাবাহিক গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, “দুর্নীতিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে অবশেষে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।” যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই দলের নেতাদের নিশানা করা হচ্ছে এবং প্রশাসনকে ব্যবহার করে বিরোধীরা চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে