ওঙ্কার ডেস্ক: দিঘায় বেড়াতে আসা পর্যটকদের পোষাকে নয়া বিধিনিষেধ আরোপের কথা ভাবছে রাজ্য সরকার। সেই ভাবনার অন্যতম বিষয় হল, সমুদ্রে শাড়ি বা সালোয়ার-কামিজ পরে নামার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা। সম্প্রতি দিঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালে এক অনুষ্ঠানে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, সপ্তাহান্তে বিপুল সংখ্যক পর্যটক সমুদ্রে নামেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই শাড়ি বা সালোয়ার-কামিজ পরে স্নান করেন, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাই নিরাপত্তার স্বার্থে সমুদ্রস্নানের উপযোগী পোশাক ব্যবহারে জোর দেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রী জানান, আধুনিক সময়ে ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সুইমওয়্যারও সহজলভ্য। তবে কেউ যদি তা ব্যবহার করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করেন, সেক্ষেত্রে শাড়ি বা সালোয়ার-কামিজ পরলেও উজ্জ্বল রঙের পোশাক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে দূর থেকে পর্যটকদের সহজে শনাক্ত করা সম্ভব হবে এবং প্রয়োজনে দ্রুত উদ্ধারকাজ চালানো যাবে।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কয়েকটি প্রস্তাবও সামনে এসেছে। সমুদ্রে নামার সময় ফ্লুরোসেন্ট রঙের ক্যাপ ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে লাইফগার্ডরা দূর থেকেও পর্যটকদের সহজে নজরে রাখতে পারেন। পাশাপাশি সমুদ্রতটের প্রতি ১০০ মিটার অন্তর প্রশিক্ষিত নিরাপত্তাকর্মী বা বিশেষজ্ঞ মোতায়েনের পরিকল্পনাও রয়েছে। লাইফগার্ড ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করে তোলার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া দিঘার সমুদ্র সৈকত ও সংলগ্ন এলাকায় মাদক বা মদ্যপান রোধে কড়া নজরদারির কথাও জানানো হয়েছে। মন্ত্রীর বক্তব্য, কোনও পর্যটক যাতে মদ্যপ অবস্থায় সমুদ্রে না নামেন, তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনকে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে। ডাবের মধ্যে মদ বিক্রির মতো অভিযোগও খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে।